রাত ০৩:২৩, বুধবার, ১৮ মে, ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ

মেয়র আব্বাসের অবৈধ দুই মার্কেট উচ্ছেদ

মেয়র আব্বাসের অবৈধ দুই মার্কেট উচ্ছেদ
মেয়র আব্বাসের অবৈধ দুই মার্কেট উচ্ছেদ

রাজশাহী প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধুকে কুটক্তি করা রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভার আলোচিত মেয়র আব্বাস আলীর অবৈধ দুইটি মার্কেট উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে সরকারি খাল দখল করে নির্মাণাধীন ওই দুইটি মার্কেটের ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। দিনভর এ মার্কেট ভেঙে ফেলার সময় উপস্থিত ছিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন।

 

তিনি বলেন, সরকারি খাল দখল করে মেয়র আব্বাসের মার্কেট উচ্ছেদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগথেকে গত ১০ অক্টোবর চিঠি দেয়া হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের পর থেকে বিষয়টি তদন্ত করে মতামতসহ জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এরপরে মেয়র আব্বাসকে গত একমাস আগে উচ্ছেদের নোটিশ প্রদান করা হয়। তাকে নোটিশ দেয়ার পরেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একারণে মার্কেট দুটি ভাঙা হচ্ছে।

শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল নয়টায় আব্বাসের অবৈধ মার্কেট ভাঙা শুরু হলে স্থানীয় উৎসাহী লোকজন সেখানে ভিড় করেন।

মার্কেট দুটি এমন সময়ে ভাঙা শুরু হল যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মেয়র আব্বাস আলী রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

এ ছাড়া একই অভিযোগে আব্বাস আলীকেপবা উপজেলা আওয়ামী লীগ কাটাখালি পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। তাকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আব্বাসকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য জেলা আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠিয়েছে।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে বছরখানেক আগে কাটাখালি পৌরসভার ওপর দিয়ে যাওয়া খালটি ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) পুনঃখনন করে।

গত এপ্রিলের দিকে  মেয়র আব্বাস সরকারি এই খালের ওপর মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন। ১৯ জুলাই একতলার ছাদ ঢালাই সম্পন্ন করা হয়।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সরকারি খালের ব্রিজের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে খালের ওপর প্রায় ১ হাজার ১৪৪ বর্গফুট জায়গাজুড়ে এ তিনতলা মার্কেটটি নির্মাণ শুরু করেন আব্বাস। এখানে ইতিমধ্যে দুইতলা ভবন উঠে গেছে।

এই মার্কেটটি আব্বাসের তিন তলা করার পরিকল্পনা ছিল।মার্কেটে ২১টি দোকান হত। অন্যদিকে ব্রিজের উত্তর পাশে খালের ওপর আরেকটি মার্কেটের দুইতলা উঠে গেছে। এই মার্কেটে দোকান হবে মোট ছয়টি। এসব দোকান ইতোমধ্যে আব্বাস স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বরাদ্দ দিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে সরকারি খালের ওপর মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু হলে অভিযোগ করেন কাটাখালি পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত আগস্ট মাসে পবা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ  দেন।

এরপর কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকলেও পরে আবার জোরেশোরে নির্মাণকাজ শুরু করেন আব্বাস। কিন্তু এসবের পরও অদৃশ্য কারণে মার্কেটটি ভাঙেনি স্থানীয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ এহসান উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, একমাস আগে মেয়র আব্বাসকে মার্কেট দুটি ভেঙে ফেলার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেছেন। এ কারণে এখন মার্কেট দুটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে খালের ওপর আব্বাসের মার্কেট নির্মাণ নিয়ে যুগান্তরে একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর ভিত্তিতেই আব্বাসের মার্কেট উচ্ছেদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ স্থানীয় প্রশাসনকে এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়।

Share This Article


১০০ টাকা ছাড়িয়েছে খোলা বাজারে ডলারের দাম

আবারো বাড়লো স্বর্ণের দাম

বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজ

নর্থ সাউথের ১০টি বিলাসবহুল গাড়ি বিক্রির নির্দেশ

পল্লবীর মৃত্যু: অভিনেত্রীর প্রেমিক গ্রেপ্তার

প্লাস্টিক সার্জারি করাতে গিয়ে ২১ বছর বয়সী অভিনেত্রীর মৃত্যু

বড়বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার তরুণী

আমাকে হানিমুনে গিয়েই মেরে ফেলতে চেয়েছিল :

করোনা নিয়ন্ত্রণে এবার সেনা নামাল উত্তর কোরিয়া

‘যুদ্ধ বন্ধের’ পথ বন্ধ হয়ে গেছে: রাশিয়া

হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস

দাপুটে শেষ টাইগারদের!

পি কে হালদারকে হস্তান্তরে সময় লাগবে : দোরাইস্বামী

পদ্মা সেতুর চূড়ান্ত টোল নির্ধারণ

আরও ১০ দিনের রিমান্ডে পি কে হালদার