Templates by BIGtheme NET
৩ আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১০ সফর, ১৪৪৩ হিজরি
Home » জাতীয় » শেষ হতে যাচ্ছে গভীর সমুদ্র বন্দরের আক্ষেপ!

শেষ হতে যাচ্ছে গভীর সমুদ্র বন্দরের আক্ষেপ!

প্রকাশের সময়: জুলাই ২৮, ২০২১, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যে রপ্তানি পণ্য পরিবহনে জাহাজে বুকিং মিলছে না সহজেই। কনটেইনার ডিপোগুলোতে রপ্তানি পণ্যের স্মরণকালের জট। ঠিক এ সময়ে যদি দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর থাকত, তাহলে সমস্যার সম্মুখিন হতো না বাংলাদেশ। ইউরোপ-আমেরিকায় সরাসরি পণ্য পরিবহন সেবা থাকলে যেমন অগ্রাধিকার পেত এ দেশের রপ্তানিকারকেরা, তেমনি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে বড় আকারের এক-দুই জাহাজেই জমে থাকা সব রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার ইউরোপ-আমেরিকায় নেওয়া যেত। তাই বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা নিজস্ব একটি গভীর সমুদ্র বন্দর।

১৮৮৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলের প্রধান সমুদ্রবন্দর হয়ে যায় এটি। কিন্তু বন্দরের গভীরতা সাড়ে ৯ মিটারের মতো হওয়ায় সেখানে বড় জাহাজগুলো ভিড়তে পারছে না। যে কারণে দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৮ সালে গভীর সমুদ্র বন্দরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে থেকেই বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে আলোচনা চলছে।

এরপর বিভিন্ন সরকারের আমলে গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০৯ সালে। ওই বছর জাপানের প্যাসিফিক কনসালট্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল নয়টি সম্ভাব্য এলাকা পরিদর্শন করে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সুপারিশ করে সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয়। চীনের অর্থায়নে বন্দরটি নির্মাণের কথা থাকলেও ২০১৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সমঝোতা স্মারক সই হয়নি। যার কারণে বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পটি। এরপর পটুয়াখালীর পায়রায় সরকার গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের ঘোষণা দিলেও অনেক ব্যয়ববহুল হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে ‘বিগ বি’ উদ্যোগের ঘোষণা পর এটি বাস্তব রূপ দিতে দেশটির উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ২০১৬ সালে একটি জরিপ করে মাতারবাড়ীতে বন্দর নির্মাণের পরামর্শ দেয়। এরপর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ‘মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প’ নেয়, যা যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। চট্টগ্রাম বন্দরের আওতাধীন হওয়ায় নথিপত্রে এটিকে মাতারবাড়ী টার্মিনাল বলা হচ্ছে। কার্যত এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর।

প্রকল্প পরিকল্পনায় জানা যায়, এই বন্দরের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। যার মধ্যে সড়ক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৮ হাজার ৮২১ কোটি টাকা। বন্দর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮২০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রামের সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে কয়েকটি সুবিধা বিনিয়োগকারীরা প্রথমেই জানতে চান, তার অন্যতম হলো বন্দর। বন্দরসুবিধা তৈরিতে আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেছে। তবে তৈরির পর বাংলাদেশ বিশেষ সুবিধা পাবে বলেও মনে করেন এই ব্যবসায়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 − eleven =