Templates by BIGtheme NET
৮ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২২ জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
Home » করোনাভাইরাস » করোনা ভ্যাক্সিনের মেধাসত্ত্ব বাতিলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়!

করোনা ভ্যাক্সিনের মেধাসত্ত্ব বাতিলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়!

প্রকাশের সময়: মে ৬, ২০২১, ১০:১৮ অপরাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে করোনা সংকটের আরও দ্রুত মোকাবিলা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কোভিভ-১৯ ভ্যাক্সিনের ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি বা মেধাসত্ত্ব নিরাপত্তা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে কোনো কোম্পানি বিনা জটিলতায় সেই টিকা উৎপাদন করতে পারবে৷

তবে এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ও ভ্যাকসিনের অন্যান্য মালিকদের অনুমোদনসহ কিছু জটিল প্রক্রিয়া এখনও বাকি আছে। এছাড়া এমন ঘোষণায় ওষুধ বিশ্বে বড় রকমের তোলপাড়ও সৃষ্টি হয়েছে।

গত বছর বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের জায়ান্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এর টিকা উদ্ভাবনের চেষ্টা করতে থাকে। তারপর একের পর এক কোম্পানি করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কার করে।

জানা গেছে, ভ্যাক্সিনের অনুমোদন, উৎপাদন, রপ্তানি, সত্ত্ব নিয়ে জটিলতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের কারণে এখনো পর্যন্ত যথেষ্ট সংখ্যক মানুষ করোনা টিকা পান নি ৷ মূলত ধনী দেশগুলিই দুর্লভ টিকার সিংহভাগ দখল করে বসে রয়েছে৷
এমন প্রেক্ষাপটে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ একশোরও বেশি দেশ করোনা টিকার পেটেন্ট বা মেধাসত্ত্ব সাময়িক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলো৷ আর এমন সময়েই আসলো বাইডেনের এই ঘোষণা।

বলা বাহুল্য, টিকা প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যে এর বিরোধিতা করছে৷ তাদের যুক্তি- টিকা আবিষ্কার এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী টিকার ক্রমাগত নবায়নের জন্য গবেষণায় বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়৷ একমাত্র বাণিজ্যিক স্বার্থেই এমন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব৷

মেধাসত্ত্বের উপর কোম্পানির অধিকার প্রত্যাহার করলে বাজার থেকে সেই অর্থ সংগ্রহের উপায় থাকবে না৷ তাছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলিতে টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে দুশোরও বেশি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে৷ ফলে টিকা তৈরির কাঁচামালসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে বলে ওষুধ কোম্পানিগুলি দাবি করছে৷

উল্লেখ্য, বাইডেন প্রশাসনের সমর্থনের খবর প্রকাশিত হবার পর পুঁজিবাজারে মডার্না ও নোভাভ্যাক্স কোম্পানির দরপতন ঘটেছে৷ অ্যামেরিকার ওষুধ কোম্পানিগুলি সম্মিলিতভাবে এমন সিদ্ধান্ত প্রতিরোধ করবে বলে জানিয়েছে৷

এছাড়া এই ঘোষণার পর অক্সফোর্ড এর মেধাসত্ত্ব উন্মুক্ত হলেও অক্সফোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে যে বিনিয়োগ করেছে সেটি নিয়েও জটিলতা থেকে যাবে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের জটিলতা যেভাবেই নিরসন হোক, এই ঘোষণার ফলে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো অথবা ওষুধ উৎবাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই করোনার ভ্যাক্সিন উৎপাদন করতে পারবে। এতে সহজলভ্য হবে ভ্যাক্সিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন পৃথিবীতে যে কোনও বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব, ওষুধ বা টিকার উদ্ভাবকের মালিকানা নিশ্চিত করতে এবং সেটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হলে তাতে মালিকের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হয় এই মেধাসত্ত্ব আইনের মাধ্যমে। কিন্তু বাইডেনের এই ঘোষণার পর করোনা ভ্যাক্সিন উৎপাদনে মেধাসত্ত্বের অনুমোদন লাগবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

7 − 1 =