Templates by BIGtheme NET
৮ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২২ জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
Home » আন্তর্জাতিক » গভীর জঙ্গলে চলছে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ :
রাজপথ ছেড়ে স্বশস্ত্র আন্দোলনে ঝুঁকছে মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীরা

গভীর জঙ্গলে চলছে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ :
রাজপথ ছেড়ে স্বশস্ত্র আন্দোলনে ঝুঁকছে মিয়ানমারের বিক্ষোভকারীরা

প্রকাশের সময়: মে ৫, ২০২১, ৮:০৩ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের সেনাশাসনবিরোধী রাজপথের আন্দোলনটি ধীরে ধীরে স্বশস্ত্র আন্দোলনের দিকে মোড় নিচ্ছে । সম্প্রতি বার্তা সংস্থা সিএনএন প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে একদল তরুন-তরুনী মিয়ানমারের গভীর জঙ্গলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

সিএনএন জানিয়েছে, এরা মূলত মিয়ানমারের রাজপথের বিক্ষোভকারী ছিলেন। আন্দোলনে কাজ হবে না ভেবে এখন তারা স্বশস্ত্র ট্রেনিং নিচ্ছেন। মূলত মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতেই তারা এ প্রশিক্ষন নিচ্ছেন।

জানা গেছে, সেনাশাসনবিরোধীরা সিভিল ডিসঅবিডিয়েন্স মুভমেন্টের (সিডিএম) নামে নতুন একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। সিডিএম নেতৃবৃন্দ যথেষ্ট পরিকল্পনা করেই এ পথে এগিয়েছে। শহর ছেড়ে পালিয়ে আসা সব বিক্ষোভকারীও এই সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান হয়। সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাজপথে নামে জনগণ। বিক্ষোভকারীদের দমনে সহিংস পথ বেছে নেয় সামরিক সরকার। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে অনেক মানুষ শহর-নগর ছেড়ে দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বিভিন্ন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন।

সিডিএমের সদস্যদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসাকর্মী, শিক্ষক, প্রকৌশলী, ছাত্র ও শ্রমিক। সিডিএমের অনেক সদস্য সেনাশাসনের প্রতিবাদে তাঁদের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।

এদিকে আগে থেকেই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। তাদের নিয়ন্ত্রিত সীমান্ত অঞ্চলেই সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সিডিএম সদস্যরা।

সিডিএমের দিকে সবচেয়ে বড় হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) সশস্ত্র শাখা কারেন ন্যাশনাল ডিফেন্স অর্গানাইজেশন (কেএনডিও)। কেএনডিওর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল নেরদা বো মায়া। তিনি সিডিএমের একদল সদস্যের মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন।

মেজর জেনারেল নেরদা বলেন, তিনি প্রায় ২০০ অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনও আগে কখনো বন্দুক হাতে নেননি। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের মধ্যে অনেকেই ছাত্র। তাদের বয়স অল্প। এ দলে আরও আছে নার্স, চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী।

এই কারেন বিচ্ছিন্নতাবাদীরাই একসময় রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তারা রোহিঙ্গাদের সাহায্য দেয়া বন্ধ করে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন মিয়ানমারের সামরিক জান্তা যদি তাদের সহিংস নীতি থেকে বের না হয়ে আসে এবং সিডিএম যদি সত্যিকার অর্থেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে তাহলে সিরিয়ার মতো আরেকটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে মিয়ানমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twelve − eight =