Templates by BIGtheme NET
২৫ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৮ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৫ রমজান, ১৪৪২ হিজরি
Home » ধর্ম ও জীবন » হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী

হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী

প্রকাশের সময়: মে ৩, ২০২১, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ

 

সাহাবা। নবীজীর (স.) সহযোদ্ধা। যারা ছিলেন নবীজীর (স.) বাণীর ধারক। যারা শান্তি ও সাম্যের বাণী নিয়ে ঘর ছেড়ে ছড়িয়ে পড়েছিলেন দেশ-দেশান্তরে। মানুষকে মুক্ত করেছিলেন শোষণের হাজার বছরের জাঁতাকল থেকে। সাম্রাজ্যবাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর যারা উড্ডীন করেছিলেন সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পতাকা। যাদের শতকরা ৯০ জনই মৃত্যুবরণ করেছিলেন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে।

সাহাবার পরের প্রজন্ম তাবেঈন। তার পরের প্রজন্ম তাবে-তাবেঈন। যারা নবীজীর (স.) সত্যজ্ঞান ধারণ করে গড়ে তুলেছিলেন এক আলোকোজ্জ্বল সভ্যতা। সত্যানুসন্ধানে যাদের অক্লান্ত মেহনতের ফসল হচ্ছে হাদীসের লিখিত রূপ। তারপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম। শতাব্দীর পর শতাব্দী। নিবেদিতপ্রাণ মুহাদ্দিসদের হাদীস জ্ঞানের অংশবিশেষের বাংলা মর্মান্তরই হচ্ছে ‘হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী’। শহীদ আল বোখারী মহাজাতকের অনুবাদে বইটি প্রকাশ করেছে কোয়াণ্টাম ফাউন্ডেশন। বইটিতে মোট আটটি বিষয়ে ১৬৬৮টি হাদিস বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলাভাষায় হাদিসের অনুবাদ বা হাদিস বিশ্লেষণ নিয়ে অনেক গ্রন্থ আছে। তবে এক্ষেত্রে হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এ গ্রন্থের বিষেশত্ব হলো একেবারে সহজ সরল ভাষায় করা জীবন ঘনিষ্ট নির্বাচিত হাদিস সংকলন।

বইটিতে ১২৯ জন হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবা, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের বর্ণিত হাদিস ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের সবার নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় বইয়ে সংযুক্ত হয়েছে, যা খুবই তথ্যবহুল। ২৭টি উৎস গ্রন্থ এবং ৩১টি রেফারেন্স বইয়ের সাহায্য নেয়া হয়েছে। সবগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া আছে। একজন পাঠকের কাছে পড়ার সময় বইটিকে কঠিন গবেষণা গ্রন্থ মনে হবে না কিন্তু গবেষণা করার সকল উপকরণই এখানে দেয়া আছে।

হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী গ্রন্থাকারে ছাড়াও অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে এবং পিডিএফ বই হিসেবে ডাউনলোড করেও নেয়া যায় (hadith.qm.org.bd)। এছাড়াও বইটি রকমারিতেও পাওয়া যাচ্ছে।

এইসব হাদিস সম্পর্কে লেখক বলেছেন ‘‘হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণী’ নবীজীর (স) পবিত্রবাণীর শাব্দিক অনুবাদ নয়। নবীপ্রেমিক হিসেবে তাঁর পবিত্রবাণীর যে অন্তর্নিহিত অর্থ আমি উপলব্ধি করেছি, তা-ই আন্তরিকতার সাথে মায়ের ভাষায় উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে মর্মার্থ অনুধাবনে, প্রকাশে বা মুদ্রণে কোথাও কোনো ভুল হয়ে থাকলে আল্লাহ গাফুরুর রাহীমের কাছে করজোড়ে অবনতমস্তকে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। পরম করুণাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে সকল ভুলভ্রান্তি মুক্ত করে সিরাতুল মুস্তাকিম, সাফল্যের সরলপথে পরিচালিত করুন।’’

হাদীস শরীফ বাংলা মর্মবাণীর উদ্বোধনী হাদীস-ই বলে দেয় যে তিনি কী ছিলেন! নবীজী (স) এই হাদীসে সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘তোমার মনে কখনও কারও প্রতি কোনও বিদ্বেষ বা অমঙ্গল চিন্তা থাকবে না। এটাই আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নতকে ভালবাসল সে আমাকে ভালবাসল। আর যে আমাকে ভালবাসল জান্নাতে সে আমার সাথে থাকবে’।

হিংসা বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতায় নিমজ্জিত মানুষের মুক্তির জন্যে এর চেয়ে ভালো বাণী আর কী হতে পারে! আসলে তিনি শুধু বাণী দিয়ে যান নাই, সেই বাণীকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্যে যা যা করণীয় যা যা করতে হবে তিনি তা নিজে করেছেন। এবং সেভাবেই তিনি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

সেরকম জীবন নির্দেশমূলক হাদিসগুলো এই গ্রন্থে স্থান করে নিয়েছে । জীবনদৃষ্টি অধ্যায়ের সূচনার হাদীসটিই হচ্ছে- নবীজী (স) বলেন, প্রতিটি কাজ তুমি সবচেয়ে ভালোভাবে করবে। এটাই আল্লাহর নির্দেশ। নবীজী (স)আল্লাহর এই নির্দেশ শুধু মানুষকে জানিয়েই ক্ষান্ত হন নাই, তিনি তার নিজের জীবনে প্রতিটি কাজ সবচেয়ে ভালোভাবে করার চেষ্টা করেছেন। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সমাজজীবন রাষ্ট্রীয়জীবন ধর্মীয়জীবন সবক্ষেত্রেই তিনি এই সবচেয়ে ভালোভাবে করা অর্থাৎ এহসানের গুরুত্ব দিয়েছেন এবং নিজে তা পালন করেছেন। এবং তার সাহাবীরা তাদের জীবনেও প্রতিটি কাজ সবচেয়ে ভালোভাবে করার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এবং সেজন্যেই তারা এক আলোকোজ্জ্বল সভ্যতা নির্মাণ করতে পেরেছিলেন।

গ্রন্থটির ১৭ থেকে ৭২ পৃষ্ঠাব্যাপী রয়েছে জীবনদৃষ্টি বিভাগে মোট ১৬টি বিষয়ে ২৫৬টি হাদিস রয়েছে। প্রথমেই নিয়ত শিরোনাম রয়েছে ১০টি হাদীস। দৃষ্টিভঙ্গি শিরোনামে রয়েছে ৯৮টি হাদিস। জ্ঞান শিরোনামে রয়েছে ৩৩টি হাদিস। ধ্যান ও মৌনতা শিরোনামে রয়েছে আটটি(০৮) হাদিস । প্রজ্ঞা শিরোনামে চারটি(০৪) হাদিস, শুকরিয়া শিরোনামে পাঁচটি(০৫) হাদিস, সালাম শিরোনামে বিশটি(২০) হাদিস, সুবচন শিরোনামে ষোলটি(১৬) হাদিস, সদাচরন/শুদ্ধাচার শিরোনামে ষোলটি(১৬) হাদিস, সমমর্মিতা শিরোনামে পাঁচটি(০৫) হাদিস, বিনয় শিরোনোমে পাঁচটি(০৫) হাদিস, দয়/কোমলতা ক্ষমা শিরোনামে দশটি(১০) হাদিস, সংযম ও আত্মশুদ্ধি শিরোনামে তেরটি(১৩) হাদিস, সবর নামে পাঁচটি(০৫) হাদিস, সদগুণ শিরোনামে সাতটি(০৭) হাদিস স্থান পেয়েছে ।

৭৩- ৯২ পৃষ্ঠার মধ্যে রয়েছে দান বিভাগে ছয়টি(০৬) শিরোনামে ৮৫টি হাদিস স্থান পেয়েছে । এরমধ্যে সাদকা শিরোনামে রয়েছে তেত্রিশটি(৩৩) হাদিস, সাদকা স্বরূপ শিরোনামে উনিশটি(১৯) হাদিস, বৃক্ষরোপন শিরোনামে তিনটি(০৩) হাদিস, সৎকর্মের গুরুত্ব শিরোনামে ষোলটি(১৬) হাদিস, এতিমের প্রতি দায়িত্ব শিরোনামে দশটি(১০) হাদিস, পরামর্শ শিরোনামে চারটি(০৪) হাদিস স্থান পেয়েছে ।

ধর্ম সম্পর্কে রয়েছে ৯৩ থেকে ১৬০ পৃষ্ঠাব্যাপী বিশটি(২০) শিরোনামে ২৮৪টি হাদিস স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ইসলাম শিরোনামে রয়েছে একুশটি(২১) হাদিস, কোরআন শিরোনামে রয়েছে সতেরটি(১৭) হাদিস, বিশ্বাস ও বিশ্বাসী শিরোনামে চৌয়াল্লিশটি(৪৪) হাদিস, আল্লাহ ও আল্লাহ-সচেতনতা শিরোনামে ছাব্বিশটি(২৬) হাদিস, বায়াত/সঙ্ঘ শিরোনামে উনিশটি(১৯) হাদিস, আবেদ(ইবাদতকারী শিরোনামে চারটি(০৪) হাদিস, জিকির(আল্লাহর স্মরণ) শিরোনামে সাতাশটি(২৭) হাদিস, দোয়া শিরোনামে বাইশটি(২২) হাদিস, নবীজীর(স) দোয়া শিরোনামে চব্বিশটি(২৪) হাদিস, দরুদ শিরোনামে আটটি(০৮) হাদিস, তকদির শিরোনামে চারটি(০৪) হাদিস, স্বপ্ন শিরোনামে নয়টি(০৯) হাদিস, মন ও মনন শিরোনামে ছয়টি(০৬) হাদিস, জেহাদ শিরোনামে নয়টি(০৯) হাদিস, শহিদ শিরোনামে নয়টি(০৯) হাদিস, মৃত্যু শিরোনামে বারটি(১২) হাদিস,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × 2 =