Templates by BIGtheme NET
২৫ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৮ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৫ রমজান, ১৪৪২ হিজরি
Home » ধর্ম ও জীবন » যুগে যুগে নবী-রাসূলদের রোজা পালনের যত ইতিহাস

যুগে যুগে নবী-রাসূলদের রোজা পালনের যত ইতিহাস

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ২৭, ২০২১, ৪:৪০ অপরাহ্ণ

ইসলামের ভিত্তি যে পাঁচটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত, রোজা তার মধ্যে একটি। এ রোজা শুধু উম্মতে মুসলিমার উপর‌ই ফরজ হয়নি। পূর্বের নবী-রাসূলদের ওপরেও রোজা রাখার বিধান ছিল। কোরআনের নির্দেশনায় তা প্রমাণিত।

সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩-তে আল্লাহ তা’আলা বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম বা রোজা ফরজ করা হয়েছে; যেভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া (আত্মশুদ্ধি) অর্জন করতে পারো।

আলোচ্য আয়াতে থেকে জানা যায়, আল্লাহ তাআলা সব যুগের নবী-রাসূলদের ওপরও রোজা রাখাকে আবশ্যক করে দিয়েছিলেন। আর সে মোতাবেক‌ই রোজাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন সবাই।

ইসলামের আগে নবী-রাসূলদের রোজার কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো-

হযরত আদম আলাইহিস সালাম :

ফতহুল বারিতে এসেছে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন নিষিদ্ধ ফল খেয়েছিলেন এবং পরে তওবা করেছিলেন, তখন ৩০ দিন পর্যন্ত তাঁর তওবা কবুল হয়নি। কারণ তার দেহে নিষিদ্ধ ফলের নির্যাস তখন‌ও রয়ে গিয়েছিল।

অতঃপর তার দেহ যখন তা থেকে পাক-পবিত্র হয়ে যায়, তখন তার তওবা কবুল করেন আল্লাহ‌। তারপর তার সন্তানদের উপর ৩০ রোজা ফরজ করে দেয়া হয়।

হযরত নূহ আলাইহিস সালাম :

দুনিয়ার প্রথম রাসুল ছিলেন হযরত নূহ আলাইহিস সালাম। সেসময়‌ও রোজার প্রচলন ছিল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম শাওয়াল মাসের ১ তারিখ এবং জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ ছাড়া সারা বছর‌ই রোজা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ)

হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম :

হযরত নূহ আলাইহিস সালামের পর সর্বাধিক পরিচিত নবী ছিলেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। আল্লাহ তাআলা তাকে খলিল তথা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেন। তার যুগেও ৩০টি রোজা রাখা আবশ্যক ছিল।

হযরত মূসা আলাইহিস সালাম :

আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে আসমানী কিতাব ‘তাওরাত’ নাযিল করার আগে ৪০ দিন রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তুর পাহাড়ে রোজা পালনে ক্ষুধা ও পিপাসায় ৪০ দিন অতিবাহিত করেছিলেন।

হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম :

হযরত মূসা আলাইহিস সালামের পর আসমানী কিতাবের অধিকারী ছিলেন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম। তার যুগেও ছিল রোজার প্রচলন।

এই নবী একদিন পরপর রোজা রাখতেন। (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত) সে হিসেবে তিনি বছরের অর্ধেক সময় রোজা রেখে অতিবাহিত করতেন।

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম :

নিজেকে আসমানী কিতাবের ধারক হিসেবে তৈরি করতে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কিতাব আসার আগে দীর্ঘ ৪০ দিন পর্যন্ত রোজা রেখেছিলেন। এরপর আল্লাহ তাআলা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আসমানী গ্রন্থ ইঞ্জিল দান করেন।

হযরত ইয়াহ‌ইয়া আলাইহিস সালাম :

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের সমসাময়িক নবী ছিলেন হযরত ইয়াহ‌ইয়া আলাইহিস সালাম। তিনি নিজে রোজা রাখতেন এবং তাঁর অনুসারীদেরকে‌ও রোজা রাখতে বলতেন।

এই নবীর মতে, অন্তর সমূহের কলুষতা ও অপবিত্রতাকে পবিত্র রাখতে রোজা রাখার বিকল্প নেই।

শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) :

শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতিমাসেই তিনটি করে রোজা রাখতেন এবং তিনি ১০ মহররম আশুরার দিন‌ও রোজা রাখতেন।

বুখারী শরীফে এসেছে, শাওয়াল মাসের ঠিক আগে আগেই নবীজি রমজানের ফজিলত এবং বরকতগুলো সম্পর্কে তাঁর সাহাবীদের জানিয়ে দিতেন।

রোজার গুরুত্বে হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করেও মিথ্যা কথা বলা, পরনিন্দা ও অন্যান্য পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারল না; তার পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।’ (বুখারী)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

2 + 15 =