Templates by BIGtheme NET
২৫ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ৮ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৫ রমজান, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » গণমাধ্যমের সমালোচনা
যে কারণে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে বহুলোক

গণমাধ্যমের সমালোচনা
যে কারণে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে বহুলোক

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ১৬, ২০২১, ১০:১১ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি পশ্চিম বঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির প্রভাব বৃদ্ধি করতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের মানুষ খাবার না পেয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাদের বের করে দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে বাংলাদেশ থেকে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এর জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে অমিত শাহ এর সীমিত জ্ঞানের কারণে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশে কোন মানুষ না খেয়ে নেই বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।

অমিত শাহের বক্তব্যের জবাব দেওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনকে ভালোভাবে নেয়নি ভারতের গণমাধ্যমগুলো। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভারতের চেয়ে এগিয়ে থাকা নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যকেও সামনে নিয়ে এসেছে তারা।

১৫ এপ্রিল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্বৃতি দিয়ে বলে, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত। তার এই ধরনের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এত গভীর। এ জাতীয় মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন আবদুল মোমেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। সে দেশের গণমাধ্যমকে শব্দ চয়ণে আরও শতর্ক হওয়া উচিৎ ছিলো। তাদের থেকে এসব আচরণ আশা করা যায় না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে অমিত শাহকে কটাক্ষ করা হয়নি। বরং তাকে শুদ্রে দেওয়া হয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের সাথে একমত হয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। এটা তো আমাদের কথা নয়। এ কথা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ শৌচাগার ব্যবহার করে। অথচ ভারতের ৫০ শতাংশেরও বেশি লোকের শৌচাগার নেই। এছাড়া বাংলাদেশে শিক্ষিত মানুষের চাকরির ঘাটতি থাকলেও স্বল্প শিক্ষিতদের চাকরিতে ঘাটতি নেই। অথচ ভারতে বহু-শিক্ষিত ও স্বল্প শিক্ষিত বেকার ঘুরছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এক সময় বাংলাদেশ থেকে কিছু মানুষ চাকরির খোঁজে ভারতে যেতো এটা যেমন ঠিক। এখন ভারত থেকে বহু মানুষ চাকুরির খোঁজে বাংলাদেশে আসেন এটাও ঠিক। বর্তমানে ভারতে ১ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাংলাদেশে কাজ করেন বলেও জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × one =