Templates by BIGtheme NET
৪ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৭ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৪ রমজান, ১৪৪২ হিজরি
Home » রাজধানী » মৃত স্ত্রীকে দুর্ঘটনায় নিহত দাবি: স্বামীসহ শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেফতার

মৃত স্ত্রীকে দুর্ঘটনায় নিহত দাবি: স্বামীসহ শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেফতার

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ৪, ২০২১, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নিউজ  ডেস্কঃ

রাজধানীর হাতিরঝিলে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় শনিবার (৩ এপ্রিল) ঝিলিক আলম (২৩) নামে এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ঝিলিককে হত্যার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেছেন তার মা তহমিনা হোসেন আসমা। মামলার আসামিরা হলেন- নিহত ঝিলিকের স্বামী সাকিব আলম মিশু, দেবর ফাহিম আলম, শাশুড়ি সায়িদা আলম, শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম এবং বাসার ম্যানেজার আশিশ।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের প্রথমদিকে সাকিব আলম মিশুর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় নিহত ঝিলিক আলমের (২৩)। পরে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় তারা। মিশু বাবা-মায়ের কাছে পছন্দের বিষয়টি জানালে তারা ঝিলিকের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে বিয়েতে অমত দেন। কারণ, ঝিলিক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সাকিব আলম মিশুর পরিবার গুলশান-২ এর স্থায়ী বাসিন্দা। আর ঝিলিকের পরিবার মোহাম্মদপুরের তাজমহল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাই আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ায় সাকিবের পরিবার গরিব পরিবারের মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। সাকিব তাকে ছাড়া অন্য মেয়েকে বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন তার পরিবারকে। একপর্যায়ে ছেলের জেদের কাছে হার মানেন তারা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর মিশুদের বাড়িতেই ওঠেন ঝিলিক। কয়েক মাস তারা ভালোই ছিলেন। ২০২০ সালের শুরুর দিক থেকে শুরু হয় অশান্তি।

ঝিলিকের মা তহমিনা হোসেন আসমা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিয়ের পর মিশুর বাবা-মা ও ভাইবোন নির্যাতন শুরু করেন। উঠতে-বসতে তারা ঝিলিককে ‘গরিবের মেয়ে’ বলে গালমন্দ করতেন। নির্যাতনও করা হতো।’

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানায় মামলা করতে এসে এসব কথা বলার সময় অঝরে কাঁদছিলেন বৃদ্ধা তহমিনা। চোখ মুছতে মুছতে বলেন, ‘আমরা গরিব। বিয়ের পরপর দু-একবার গিয়েছি ঝিলিকের শ্বশুরবাড়ি। কিন্তু তার শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবর খারাপ আচরণ করতেন। কেন ওই বাসায় পা রেখেছি- এটা শুনিয়ে আজেবাজে কথা বলতেন তারা। এ আচরণে তাদের বাড়ি আর যাইনি আমরা।’

ঝিলিকের মা আরও জানান, ২০১৯ সালের জুনে ঝিলিককে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। তিনি একাই তাজমহল রোডে বাবা-মায়ের বাসায় ওঠেন। কয়েকদিন পর মিশু যান সেখানে। প্রায় দেড় মাস থাকেন তাদের বাসায়। এরই মধ্যে বিভিন্ন সময় মিশুর মা তাকে ফোন করে বাসায় চলে আসতে বলতেন। আগস্টের শুরুর দিকে মিশুকে জোর করে গুলশানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন খিলগাঁওয়ের একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয় তাকে। কয়েকদিন স্বামীর ফোনে সাড়া না পেয়ে ঝিলিক গুলশানে শ্বশুরবাড়িতে যান। কিন্তু শাশুড়ি তাকে বাসায় ঢুকতে দেননি। ফিরে যান বাবার বাসায়। কয়েক দিন পর আবার গুলশানে যান। সেদিনও বাসায় ঢুকতে দেয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × five =