Templates by BIGtheme NET
৪ বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৭ এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৪ রমজান, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » ঘর দিতে পারলাম, মুজিববর্ষে এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব: প্রধানমন্ত্রী

ঘর দিতে পারলাম, মুজিববর্ষে এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ২৩, ২০২১, ৮:১১ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষে আমাদের অনেক কর্মসূচি ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে সেগুলি আমরা করতে পারিনি । কিন্তু আজকে আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় উৎসব এটাই যে, গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে আমরা ঘর দিতে পারলাম। এর থেকে বড় উৎসব বাংলাদেশে আর কিছু হতে পারে না।

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন। একসাথে সর্বমোট ৬৯ হাজার ৯০৪ জন ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদানের ঘটনা বিশ্বে এটিই প্রথম। যার মাধ্যমে মুজিববর্ষে পিতার স্বপ্ন পূরণের সারথী হিসাবে আরেকটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনি ঘোষণা শেষে প্রধানমন্ত্রী গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ৪৯২টি উপজেলা প্রান্ত ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পাশাপাশি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় মুজিববর্ষে গৃহহীন-ভূমিহীনদের জমিসহ ঘর উপহার দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত সরকারের সকল স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, যারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িৎ ছিলেন তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এদেশের কোনো শ্রেণির মানুষ কিন্তু বাদ যাচ্ছে না। বেদে শ্রেণিকে ঘর করে দিচ্ছি। তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। হিজড়াদের আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি, তাদেরকেও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা দলিত শ্রেণি বা ঢাকার সুইপার কলোনিতে থাকত তাদের জন্য ভালো এবং আধুনিক বাসভবন তৈরি করে দিচ্ছি আমরা।’

তিনি বলেন, ‘একটা ঠিকানা সমস্ত মানুষের জন্য করে দিবো। কারণ আমি বিশ্বাস করি, যখন এই মানুষগুলি নিজেদের ঘরে থাকবে, তখন আমার বাবা-মা যারা সারাজীবন ত্যাগ স্বীকার করেছেন দেশের জন্য, তাদের আত্মা শান্তি পাবে। লাখো শহীদ রক্ত দিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাদের আত্মা শান্তি পাবে।’

‘এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাটাই তো ছিল আমার বাবার একমাত্র লক্ষ্য। কাজেই আজকে আমি সবচেয়ে খুশি যে এতো অল্প সময়ে এতোগুলি পরিবারকে আমরা একটা ঠিকানা দিচ্ছি। আর এই শীতের মধ্যে সকলে অন্তত ভালভাবে থাকতে পারবেন—’ বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

‘আমরা তো আমাদের যারা রিফিউজি তাদের জন্য ভাসানচরে ঘর করে দিয়েছি। ১৯৯১ সালে যখন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় সেই সময় কক্সবাজার খুরুশকুলে যারা ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তাদেরও আমি ফ্ল্যাট করে দিয়েছি। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্থ তাদের জন্যও ঘর করে দিয়েছি এবং আরও ঘর তৈরি হবে।’ খুব শিগগিরই আরও ১০০টা বিল্ডিং সেখানে তৈরি হবে বলেও অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমরা ৬৬ হাজার ১৮৯টা ঘর করে দিলাম, আমরা আরও এক লাখ ঘর তৈরির কাজ খুব শিগগিরই শুরু করব। মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশে কোনো লোক গৃহহারা থাকবে না। মুজিববর্ষের অনেক কর্মসূচি আমাদের ছিল। সেগুলি আমরা করতে পারিনি করোনার কারণে। করোনা আমাদের জন্য যেমন অভিশাপ নিয়ে এসেছে আবার এই একদিকে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কারণ এই একটি কাজের দিকেই নজর দিতে পেরেছি। আমাদের আজকে এটাই বড় উৎসব যে গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে আমরা ঘর দিতে পারলাম, এর থেকে বড় উৎসব আর কিছু বাংলাদেশে হতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, ‘শুধু দোয়া চাই আপনাদের। যেন এদেশটাকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তুলতে পারি। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে, সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারে। তাদের জীবন যেন উন্নত হয়। বিশ্ব দরবারে আমরা বাঙালি হিসাবে মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে যেন চলতে পারি, সেটাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’

এরপর সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুজিববর্ষে গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘরসহ জমি উপহার দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তার পক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে সারাদেশে গৃহহীন-ভূমিহীনদের একক ঘরের দলিল, খতিয়ান, ঘর দেওয়া সনদ হস্তান্তর করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারাই আমার পক্ষ থেকে সব গৃহহীন ভূমিহীন মানুষকে তাদের দলিল হস্তান্তর করে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ten − five =