Templates by BIGtheme NET
২৩ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৮ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৩ রজব, ১৪৪২ হিজরি
Home » আইন- আদালত » সুনামগঞ্জে মামলার আসামিদের সাজার পরিবর্তে বই উপহার

সুনামগঞ্জে মামলার আসামিদের সাজার পরিবর্তে বই উপহার

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ২০, ২০২১, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জে ৩৫টি মামলায় বিচারাধীন ৪৯ জন শিশু আসামিকে সংশোধনের জন্য কারাগারের পরিবর্তে বই উপহার দিয়ে বাবা-মায়ের কাছে পাঠানোর ব্যতিক্রমী একটি রায় দিয়েছেন সুনামগঞ্জ শিশু আদালতের বিচারক।

বুধবার দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং শিশু আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এ রায় দেন।

রায়ের পর আদালতের বিচারকের পক্ষ থেকে শিশুদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়। এর আগে আরও ১৪ জন শিশুকে সংশোধনের জন্য প্রবেশনে মুক্তি দিয়ে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তিনি।

সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নান্টু রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মুক্তি পাওয়ার পর আদালতের দেওয়া শর্ত প্রতিপালন করবে বলে জানায় ওই শিশু আসামিরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দায়ের করা ৩৫টি মামলায় ৪৯ জন আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩ ধারায় অভিযোগ এনে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। ক্ষুদ্র একটি অভিযোগে এসব শিশুদের আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে হতো।

ফলে তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। স্বাভাবিক জীবনে বেড়ে উঠা হুমকির মধ্যে পড়ে। ওই ৪৯ জন শিশুকে দীর্ঘমেয়াদি ঝামেলা থেকে মুক্তি দিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন আদালত। তাদের সংশোধনের জন্য ১০টি শর্ত দিয়ে ওই শিশুদের কারাগারের পরিবর্তে পরিবারের হাতে তুলে দেন।

সংশোধনের শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- একশত মনীষীর জীবনী নামক গ্রন্থ পাঠ, বাবা-মাসহ গুরুজনদের আদেশ মেনে চলা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা, ২০টি গাছ লাগানো, মাদক থেকে দূরে থাকা, ভবিষ্যতে কোনো অপরাধের সাথে নিজেকে না জড়ানো ইত্যাদি।

এদিকে মুক্তি পাওয়ার পরবর্তী এক বছর সমাজসেবা কার্যালয়ের একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে থাকবে তারা।

সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন কর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান বলেন, আদালতের নিদের্শনা মোতাবেক ওই সব শিশুদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে তাদের যথাযথ তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতা প্রদান করা হবে। আদালত থেকে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে সেগুলো যাতে তারা প্রতিপালন করে সেই বিষয়গুলো মনিটরিং করা হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে এসব শর্ত পালনে তাদের সহযোগিতা করা, পাশে থাকা। তিন মাস পরপর আদালতে এ বিষয়ে আমাকে প্রতিবেদন দিতে হবে।

সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, আদালত ৩৫ শিশু অপরাধ মামলায় একসঙ্গে যুগান্তকারী একটি রায় দিয়েছেন।

রায় ঘোষণা শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেনের দেয়া উপহার একশত মনীষীর জীবনী বই ৪৯ শিশুর হাতে তুলে দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর একই আদালত থেকে পারিবারিক বিরোধ ও নির্যাতনের অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা ৫০টি মামলার আসামিদের সাজা না দিয়ে দাম্পত্য জীবনে ফিরে যাওয়ার শর্তে মুক্তি দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

7 + 20 =