Templates by BIGtheme NET
২৩ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৮ মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ২৩ রজব, ১৪৪২ হিজরি
Home » আন্তর্জাতিক » এশিয়ায় আবার প্রভাব বিস্তার শুরু করবে আমেরিকা

এশিয়ায় আবার প্রভাব বিস্তার শুরু করবে আমেরিকা

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ২০, ২০২১, ২:৪২ অপরাহ্ণ

আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর বিশ্ব রাজনীতিতে কি কি পরিবর্তন আসতে পারে তা নিয়ে সারা বিশ্বেই হিসেব কষা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাইডেনের নীতি কেমন হবে তা দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এশিয়ার দেশগুলো।

বিগত ৫ বছর ট্রাম্পের নীতি ছিলো অন্য দেশগুলোর দিকে না তাকিয়ে আগে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা সমাধান করা। ট্রাম্প তার শাসনামলে তাই করেছেন।

২০১৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) থেকে একতরফাভাবে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে। এমনকি তার দায়িত্ব পালনকালে একবারও আসিয়ান নেতৃত্বাধীন পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ কোনো সম্মেলনে যোগ দেননি।

ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার ১৫টি দেশ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষরের দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে দেখতে হয়েছে। ১৫ দেশের চুক্তি বুঝিয়ে দিয়েছে অর্থনৈতিক চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার জন্য এশিয়ার দেশগুলো আমেরিকার অপেক্ষায় থাকে না।

এ চুক্তিতে আমেরিকার অংশগ্রহণ না থাকার কারণে এশিয়ার নেতৃত্ব চীনের হাতে চলে গেছে বলে ওয়াশিংটনের নীতি নির্ধারকরা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কিছুটা বিরক্ত।

এছাড়া বিগত ৫ বছরে চীনের ক্রমবর্ধমান উত্থান ভাবিয়ে তুলেছে আমেরিকা ও এশিয়ায় তাদের মিত্র দেশগুলোকে। ফলে এশিয়ার বন্ধুদের সঙ্গে  সম্পর্ক যেমন ঢিলা হয়েছে, তেমনি এ অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব বিস্তারের ঘটনাও তেমন দেখা যায়নি।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল উন্নয়নশীল অর্থনীতি রয়েছে এশিয়ায়। বিশ্বের শীর্ষ, দ্বিতীয় ও চতুর্থ বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ যথাক্রমে চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় যা এশিয়ায় অবস্থিত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা ও চীনের পরেই ২০৩০ সালের মধ্যে জাপান বিশ্বের চতুর্থ অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠবে বলে আশা করেছে এসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস-আসিয়ান।

তাই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন এবার এশিয়ার দিকে বিশেষ দৃষ্টি থাকবে বাইডেনের। ইতিপূর্বে এক মতামত কলামে জো বাইডেন লিখেছিলেন, “আমরা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি বৃহৎ শক্তি, বন্ধুরাষ্ট্র এবং মিত্রদের পাশে দাঁড়াব’।

তাঁর এমন মন্তব্য থেকেই বুঝা যায় এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বাড়বে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তবে এবার বদলে যেতে পারে এশিয়ার দৃশ্যপট।

ইতিমধ্যেই ভাবী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তনি ব্লিংকেন বলেছেন, আসিয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন অংশ নেবেন।

এশিয়ায় মনোনিবেশ করার কার্ট ক্যাম্পবেল নামে যে ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্টের জাতীয় সুরক্ষা কাউন্সিলে প্রেসিডেন্টের সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি এশিয়ার দেশগুলো সম্পর্কে বিশেষভাবে ওয়াকিবহাল আছেন। এশিয়ায় মার্কিন ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ছক কষতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিকে বিবেচনায় নিয়ে বাইডেন প্রশাসন বিশেষ নজর দেবেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × 3 =