Templates by BIGtheme NET
১২ মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » আন্তর্জাতিক » ইরানের পরমাণু কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা!

ইরানের পরমাণু কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা!

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

এ জেড ভূঁইয়া আনাস: যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সহায়তায় ১৯৫৭ সালে তৎকালীন শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি ‘অ্যাটমিক ফর পিস প্রোগ্রাম’নামে ইরানে পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। তার শাসনামলেই দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিতে গতি সঞ্চার হয়।

এরপর ১৯৭৪ সালে রেজা শাহ ইরানে অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশন অব ইরান (এইওআই) প্রতিষ্ঠা করলে ২০ বছরের মধ্যে ২৩টি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের প্রকল্প গ্রহীত হয়।

তবে ১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত হলে রেজা শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করে ইরানে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র’গঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্যের দেশগুলো পরমাণু কার্যক্রমে সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়। অসহযোগিতার জবাবে নিজেই পরমাণু সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনে কাজ শুরু করে তেহরান। এরই ধারাবাহিকতায় পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত সার্বিক জ্ঞান আয়ত্ত করতে সক্ষম হয় দেশটি।

এদিকে ১৯৮৭ সালে নতুন মিত্র হিসেবে আর্জেন্টিনার সঙ্গে তিনটি পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। এছাড়া ইরাক-ইরান যুদ্ধের পর মস্কো-তেহরান সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতির সুযোগে রাশিয়া ইরানকে পারমাণবিক সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়। এতে ইরান নতুন এক পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করে।

ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে বলে ১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে। যদিও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শনে তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। ১৯৯৫ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ইরান ‘বুশেহর’প্ল্যান্টকে এগিয়ে নিতে চুক্তি করে। এরপর ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ পারমাণবিক কর্মসূচি জোরালোভাবে শুরু করেন। যদিও দেশটি নীতিগতভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করে। বুশ প্রশাসন তখন ইরান-ইরাকে ভূ-প্রাকৃতিক মানচিত্রে পরিবর্তন আনার কথা বলে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান শত্রু বলে অভিহিত করে তেহরান।

এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘসহ পশ্চিমা দেশগুলো। ইরানের বেশ কয়েকটি কোম্পানির ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইরানের তেল ও গ্যাস শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মূল প্রযুক্তি সরবরাহ করেনি তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ কালো তালিকাভুক্ত করে ইরানের বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংককেও। এর আগে একই অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্ধ করে দেওয়া হয় ইরানি দূতাবাসগুলো।

২০১৫ সালের ২ এপ্রিল সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির সঙ্গে ইরানের সমঝোতা হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৫ বছরের জন্য ইরান ইউরেনিয়ামের মজুদ তিন দশমিক ৬৭ শতাংশের বেশি করতে পারবে না। সেই সঙ্গে দেশটিকে তার পরমাণু শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র নতুন করে সাজাতে হবে, যাতে প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করে কোনো অস্ত্র তৈরি করা না যায়।

কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ওই চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের উপর পূর্বের নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল করে। সাথে সাথে অন্য দেশগুলোও চুক্তি বাস্তবায়নে গড়িমসি শুরু করলে ইরান তাদের চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকি দেয়।

এরই মধ্যে ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় ইরানের জনপ্রিয় জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও আততায়ীর হাতে প্রধান পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসিন ফখরিযাদে নিহত হলে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। করোনা মহামারিতে ইস্যুটি ঢাকা পড়লেও এখন সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে এসে ইরানের জাতীয় সংসদ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার পাশাপাশি উন্নত সেন্ট্রিফিউজ স্থাপনের অনুমোদন দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জানুয়ারি ইরানকে উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ বন্ধ করে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতাকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

পশ্চিমা দেশগুলো এই সমঝোতায় তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ইরানও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করন বন্ধ করবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nineteen − four =