Templates by BIGtheme NET
১২ মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১২ জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » অবশিষ্ট ছিলো মাত্র ৯টি তুলা গাছ
প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় ফিরে এলো ঢাকাই মসলিন

অবশিষ্ট ছিলো মাত্র ৯টি তুলা গাছ
প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় ফিরে এলো ঢাকাই মসলিন

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১২, ২০২১, ৯:২২ অপরাহ্ণ

এ জেড ভূঁইয়া আনাস:

মসলিন, সূক্ষ্ম হাতে বোনা সুতির কাপড়। যা ঢাকায় উদ্ভূত হয়েছিল। ইংরেজদের নিপিড়নের স্বীকার হয়ে বাঙালিদের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প বিলুপ্ত হয়ে যায়। যদিও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একনিষ্ঠ চেষ্টা ঢাকার মসলিন এখন ফেরার পথে। ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলের তুলা গাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের ফ্যাব্রিক তৈরীর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই পর্বে আমরা জানবো কিভাবে নতুন করে ফিরলো মসলিন।

মসলিন ‘ঢাকাই মসলিন’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এক ধরনের মিহি সুতিবস্ত্র। ফুটি কার্পাস তুলা থেকে উৎপন্ন অতি চিকন সুতা দিয়ে তৈরি হতো মসলিন। দেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া এ মসলিন ১৭০ বছর পর আবার ফেরাতে সক্ষম হয়েছেন একদল গবেষক। দীর্ঘ ছয় বছরের চেষ্টায় আবারও মসলিন বুনতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় মসলিন তৈরির প্রযুক্তি ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি ২০১৪ সালে হাতে নেওয়া হয়েছিল। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। পরে গবেষণা কাজের স্বার্থে কমিটিতে যুক্ত করা হয় আরও সাতজন সদস্য। প্রকল্পের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা করা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. মনজুর হোসেনকে।

পূর্ব ভারত তথা বাংলাদেশে আগে ফুটি কার্পাস গাছ চাষ হতো। যার থেকে তৈরি হতো মসলিন। এর খোঁজে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। পরে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে একজন ছাত্র জানায়, কাপাসিয়ায় এ তুলার চাষ হতো। গাছের খোঁজে সে এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসায় চিঠি পাঠানো হয়, মাইকিং করা হয়। পরে সেখানে নয়টি তুলাগাছ পাওয়া যায়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩৮ প্রজাতির তুলাগাছের সন্ধান পাওয়া যায়। সংগ্রহ করা এসব গাছ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠে চাষ শুরু করেন মনজুর হোসেন টিম।

এদিকে, বাংলাদেশ ও ভারতের জাদুগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মসলিন কাপড় খুঁজে পেতে ব্যর্থ হন গবেষক দল। পরে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড আলবার্ট মিউজিয়ামে যাওয়া হয়। সেখানে মসলিনের কাপড়ের নমুনা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায়।’ এরপর দুই বছর গবেষণা করে রপ্ত করা হয় মসলিন তৈরির পদ্ধতি। অবশেষে ১৭১০ সালে বোনা শাড়ির নকশা দেখে হুবহু একটি শাড়ি বুনে ফেলেন তাঁতিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nine + fourteen =