Templates by BIGtheme NET
১১ মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১১ জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » Uncategorized » ‘বিজিবি-বিএসএফ সম্পর্কের প্রশংসা করে বাংলাদেশের মানুষ’

‘বিজিবি-বিএসএফ সম্পর্কের প্রশংসা করে বাংলাদেশের মানুষ’

প্রকাশের সময়: ডিসেম্বর ২৫, ২০২০, ৬:০৬ অপরাহ্ণ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যার ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ভারতের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫১তম সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা এ আশ্বাস দেন। যৌথ এক প্রেস বিবৃতিতে আজ শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনও উন্নয়ন কাজ করবে না বলেও ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও ভারত।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল ভারতের গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। এতে ভারতের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী রাকেশ আস্থানা, আইপিএস-এর নেতৃত্বে ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্তে হত্যার ঘটনা অদূর ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে বলে বিএসএফ মহাপরিচালক আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, অবৈধ মাদক পাচারের ফলে উভয় দেশের যুব সমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি মারাত্মকভাবে বেড়েছে, যা উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক এবং এটাকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা দরকার। এ ব্যাপারে চোরাকারবার সম্পর্কিত তাৎক্ষণিক ও দরকারি তথ্য পরস্পরের মধ্যে আদান-প্রদান এবং প্রয়োজনে যৌথ অভিযানে উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী উপকৃত হবে।

এদিকে, প্রচলিত আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে ভারতীয় নাগরিক এবং বিএসএফ সদস্যরা প্রায়শই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, যা দুটি বন্ধুত্বপূর্ণ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বলে বিজিবি মহাপরিচালক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখতে বিএসএফের সহযোগিতা কামনা করেন। উভয় পক্ষই অবৈধভাবে সীমানা অতিক্রম/সীমানা লঙ্ঘন থেকে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে বিরত রাখতে সম্মত হন। একই সঙ্গে উভয় বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে সীমান্তের নিয়ম-নীতি বজায় রাখার ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারতের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সম্মেলনে (ভার্চুয়ালি) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজশাহী জেলার পদ্মা নদীর ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার নিরীহ পথের অনুরোধ বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। বিএসএফ মহাপরিচালককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিষয়টি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করেন বিজিবি মহাপরিচালক। বিএসএফ মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন।.

বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন

বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সশস্ত্র আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এসব আস্তানা ধ্বংস করার জন্য অনুরোধ করেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র কথা উল্লেখ করে বিএসএফ মহাপরিচালক এসব আস্তানার (যদি থাকে) বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

উভয় পক্ষ বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট ও আস্থা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষই আগে জানানো ছাড়া সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনও উন্নয়নমূলক কাজ না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষই বন্ধ থাকা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের ব্যাপারে রাজি হয়েছে।

মহাপরিচালক পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন এপ্রিল ২০২১-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশের ঢাকায় অনুষ্ঠানের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে উভয় পক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eleven − three =