Templates by BIGtheme NET
৩ মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৩ জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » সাপের বিষ পাচারে বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে : সিআইডি

সাপের বিষ পাচারে বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে : সিআইডি

প্রকাশের সময়: নভেম্বর ২৬, ২০২০, ৬:০২ অপরাহ্ণ
বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা সাপের বিষ আসছে বাংলাদেশে। আবার তা পাচার হচ্ছে ভিন্ন কোনও দেশে। সাপের বিষ পাচারে সক্রিয় একটি সিন্ডিকেট বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাপের বিষ পাচারকারীর চক্রের মূলহোতা মো. মামুন তালুকদার (৫১) ও তার সহযোগী মো. মামুনকে (৩৩) আটক করে সিআইডির একটি দল।

এ সময় ফ্রান্ডের রেড ড্রাগন কোম্পানির উৎপাদিত এই বিষ উদ্ধার করে। অভিযানে সিআইডি দুটি বড় লকার ও ছয়টি কৌটায় সংরক্ষিত অবস্থায় এ বিষ উদ্ধার করে।

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিআইডি বলছে, বাংলাদেশে সাপের বিষ ক্রয়-বিক্রয়ের কোনও বৈধতা নেই। মূলত সাপের বিষ পাচারের জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল পাচারকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিআইডি ঢাকা মেট্রোর একটি টিম গাজীপুরের বাসন থানা এলাকা থেকে সাপের বিষ ক্রয়-বিক্রয় ও পাচারকারী একটি চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলার তদন্তকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি জানতে পারে, এ রকম আরও কয়েকটি বড় ধরনের পাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত রাতে সাপের বিষ পাচারকারী চক্রের মূলহাতো মামুন তালুকদার ও তার সহযোগী মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।

রেজাউল হায়দার বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সাপের বিষ পাচার হয়। এটার বৈশ্বিক মার্কেট রয়েছে, তবে বাংলাদেশে বিক্রির কোনও বৈধতা নেই।

তিনি বলেন, দেশের বাইরে থেকে এ সাপের বিষ কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশে এসেছে। দু-তিন হাত ঘুরে হয়তো এই চক্রের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হতো। সাপের বিষ ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যালে এটি ব্যবহারের বৈধতা নেই। যে কারণে এটি বাংলাদেশে ব্যবহারের সুযোগও নেই। আমরা এখনো নিশ্চিত না যে এটা ঠিক কোন দেশ থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এটা এলসির মাধ্যমে আনা হয়নি। জব্দ করা বিশ্বের কনটেইনারগুলোতে লেখা দেখা গেছে ‘মেড ইন ফ্রান্স’।

এক প্রশ্নের জবাবে রেজাউল হায়দার বলেন, যথাসম্ভব এ অবৈধ সাপের বিষ পাচারের জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। পুরো তদন্ত শেষ হলে এটা স্পষ্ট হবে কে বা কারা কোন জায়গা থেকে আমদানির পর এটা পাচার করছিল। ইতোমধ্যে কয়েকটি চালান বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়ার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই চক্রের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও সাত-আটজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। যেহেতু সাপের বিষ লেনদেন ক্রয়-বিক্রয় এবং পাচার আইনত অপরাধ, তাই তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

7 + fifteen =