Templates by BIGtheme NET
১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৮ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১২ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » উভয় সংকটে মিয়ানমার: চীন চাইলে হবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান!

উভয় সংকটে মিয়ানমার: চীন চাইলে হবে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান!

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ২৯, ২০২০, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার মামলার প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন রায়, মিয়ানমারের দুই সেনার স্বীকারক্তি, নতুন করে গাম্বিয়ার ৫০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল ও মিয়ানমারের নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘের বিরুপ প্রতিক্রিয়ার ফলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বহুমূখি চাপে পড়েছে সু চির দেশ। এমতবস্থায় মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বন্ধু রাষ্ট্র চীন কার্যকর উদ্যোগ নিলেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা ইস্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন রায় প্রধান করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। সেখানে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত করে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেও মিয়ানমার তা করেনি। কিন্তু গত ২৩ অক্টোবর গাম্বিয়া নতুন করে গণহত্যার বিষয়ে ৫০০ পৃষ্ঠারও বেশি দলিল দায়ের করেছে। প্রতিবেদনের সঙ্গে রয়েছে ৫০০০ পৃষ্ঠার বেশি সহায়ক উপাদানও। আর গেল সেপ্টেম্বর মাসে মিয়ানমারের দুই সেনা সদস্য গণহত্যার বিষয়ে আর্ন্তজাতিক আদালতে স্বীকারক্তি দিয়েছেন।

এদিকে, আগামী ৮ নভেম্বর মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচন। যেখানে ভোট দিতে পারছেন না বাংলাদেশে ও মিয়ানমারে অবস্থানরত দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। যার কারণে এই নির্বাচন জাতিসংঘের কাছে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বক্তৃতাকালে জাতিসংঘের প্রতিনিধি থমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, যতক্ষণ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না, ততক্ষণ নভেম্বরের এই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ বিবেচনা করা যাবে না।

অন্যদিকে, ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘটনা বিষয়ক মার্কিন আন্ডার-সেক্রেটারি ডেভিড হেল ফোনালাপে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে রোহিঙ্গা, অন্যান্য শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবসনের জন্য আহবান জানিয়েছেন। এসব ঘটনায় বহুমুখি চাপে রয়েছে মিয়ানমার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সাথে সমন্বয় করে এখনই যদি মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করা যায় তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব। তবে চীনকে অবশ্যই এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেন, ১৯৬০ সালে সামরিক শাসন জারির পর দীর্ঘদিন বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন মিয়ানমার চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের ভূমিকা নিরপেক্ষ নয়। যদি তাদের সাথে সমন্বয় করা যায় এবং গাম্বিয়ার মামলার রায় বাংলাদেশের পক্ষে আসে তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে। অন্যথায় তা অসম্ভব বলেও মনে করেন এই বিশ্লেষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

10 + nine =