Templates by BIGtheme NET
১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৮ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১২ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » বিশেষ সংবাদ » গভীর শালবনে অপরূপ আলতাদীঘি

গভীর শালবনে অপরূপ আলতাদীঘি

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ২৯, ২০২০, ১:৪১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম নওগাঁ জেলার আলতাদীঘি জাতীয় উদ্যানটি। যেটি ধামইরহাট উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী অংশে অবস্থিত একটি প্রাচীণ জলাশয়।

এ দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক সুবিশাল বনভূমি। প্রায় ২শ’ বছরের পুরনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই বন পরিপূর্ণ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদে।

এখানে দেখা মিলবে অজগর, হুনুমান, বানর, গন্ধগোকুল, বেজি, সজারু, মেছোবাঘ, বনবিড়াল, শিয়ালসহ প্রায় ২০ প্রজাতির পাখির।

২৬৪ মিটার ১২ হেক্টর জমির উপর এই বনভূমির ঠিক মাঝখানেই ৪৩ একর আয়তনের সেই বিশাল আলতাদীঘিটি। যার দৈর্ঘ ১১শ’ মিটার এবং প্রস্থ ৫শ’ মিটার।

এই দিঘীর স্বচ্ছ পানিতে ফুটে থাকা হাজারো পদ্মফুল এর সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

কথিত আছে, আনুমানিক ১৪০০ সালে এ অঞ্চলে রাজত্ব করতেন রাজা বিশ্বনাথ জগদ্দল। তখন রাজার রাজত্বকালেই একবার প্রজাসাধারণের খাবার পানির প্রকট সংকট দেখা দেয়। মাঠ-ঘাট শুকিয়ে চৌচির হওয়ায় আবাদি জমিতে ফসল ফলানো হয়ে ওঠে অসম্ভব।

হঠাৎ একদিন রানী স্বপ্নে দেখলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না পা ফেটে রক্ত বের হবে ততক্ষণ তিনি হাঁটতে থাকবেন এবং যেখানে গিয়ে পা ফেটে রক্ত বের হবে ততদূর পর্যন্ত একটি দিঘী খনন করে দিলেই সেই দীঘি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। তাতেই পানির প্রকট অভাব থেকে মুক্তি পাবে প্রজাসাধারণ। আর এটাই ছিল এ দীঘির ইতিহাস।

দীঘিটির চারপাশেই রয়েছে বনবিভাগের প্রাকৃতিক শালবাগান। পূর্ব পাশে রয়েছে কিছু সাওতাল উপজাতির বসবাস। যাদের ভিন্নধর্মী জীবনাচরণ দীঘিটির গুরুত্ব ও সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করেছে। এর উত্তর দিকের বেশকিছু অংশ ভারতীয় এলাকায় হওয়ায় সেখানে কাটাতারের বেড়া ও সীমানা পিলার, যা উপভোগ করার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এই দীঘি দেখতে ভিড় করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eight − 4 =