Templates by BIGtheme NET
১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৯ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » জন্মের পরপরই রুখে দিন শিশুর প্রতিবন্ধিতা (ভিডিওসহ)

জন্মের পরপরই রুখে দিন শিশুর প্রতিবন্ধিতা (ভিডিওসহ)

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ২৫, ২০২০, ৪:০২ অপরাহ্ণ

বিশ্বের প্রতি চার হাজার শিশুর মধ্যে একটি শিশু আক্রান্ত হয় থাইরয়েড হরমোনজনিত জটিলতায়। যে হরমোনের প্রভাবেই মূলত প্রতিবন্ধী শিশুতে পরিণত হয় আদরের নবজাতক।

আশঙ্কাজনক হারে বাংলাদেশে প্রতি ২ হাজার ২শ’ শিশুর মধ্যে একটি শিশু প্রতিবন্ধী হয়েই জন্ম নিচ্ছে।

থাইরয়েড হরমোনের জটিলতা নিয়ে জন্ম নেয়া এসব শিশুদের এই রোগকে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, কনজিনিটল হাইপোথাইরয়েডিজম।

বিএসএমএমইউতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড এলাইড সাইন্সসেসের গবেষকরা এই জটিলতা নিরসনে শিশুর জন্মের পরপরই রক্তের নমুনা নিয়ে তা চার সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা করেই জানাতে পারছেন শিশু প্রতিবন্ধী নাকি সুস্থ।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন পরিচালক অধ্যাপক ড. নুরুন নাহার বলেন, বাচ্চার মায়ের সাথে যে নাড়িটা থাকে সেই নাড়ি থেকে রক্ত সংগ্রহ করে অথবা বাচ্চার হিল থেকে রক্ত কালেক্ট করে আমরা এটাকে পরীক্ষা করে দেখি। সেখানে যদি হরমোনের পরিমাণ কম থাকে তাহলে বুঝতে হবে পরবর্তীতে বাচ্চাটি প্রতিবন্ধী হবে।

এ ক্ষেত্রে যদি এক মাস বয়সের মধ্যে ট্রিটমেন্ট করা যায় তাহলে সে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে উঠবে। যদি ট্রিটমেন্ট না দেয়া যায় তাহলে সে প্রতিবন্ধী হবে।

জন্মগত হাইপোথাইরয়েড রোগের প্রাদুর্ভাব সনাক্তকরণ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মো. আনোয়ার-উল-আজিম বলেন, যদি এই চিকিৎসাটি দেরি হয় তাহলে পরবর্তীতে চিকিৎসা দেয়ার পর ফল নাও আসতে পারে।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিএসএমএমইউ-এর ল্যাবেই পরীক্ষা করা হয় শিশুর প্রতিবন্ধীতা।

এই রোগ নিয়ে কাজ করা গবেষকরা বলেন, জাতীয়ভাবে এই কর্মসূচি পালন করা গেলে কমানো সম্ভব হবে প্রতিবন্ধীতার হার।

ডা. মো. আনোয়ার-উল-আজিম বলেন, আমাদের এখন প্রধান চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে স্যাম্পল সংগ্রহ করা। এগুলো যদি করা যায় তাহলে টেকনোলজি সাপোর্ট আমরা দিতে পারবো। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি আমাদেরকে এই সাপোর্টটি দেয় তাহলে কাজটি আরও সহজ হয়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে এই সেবা সরকারিভাবে দেয়ার কথা জানিয়ে তদারককারী সংস্থার প্রধান বলছেন, সেবা সম্প্রসারণে আরও বড় উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন চেয়ারম্যান ডা. মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম আরও বাড়াতে হবে। হাসপাতালের জায়গা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের দ্বারস্থ্য হওয়ার বিকল্প নেই। যদি সংকেত পাই তাহলে আমরাও সবকিছু বাড়িয়ে দেশের জনগণের সেবা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করবো।

বর্হিবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও শিশু জন্মের পরপরই রক্তের নমুনায় হরমোন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করাও তাগিদ দিচ্ছেন গবেষকরা।

সূত্র : সময় টিভি

 

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × four =