Templates by BIGtheme NET
১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » বিপাকে নাগরিক!
ময়লা নিয়ে কাড়াকাড়ি

বিপাকে নাগরিক!
ময়লা নিয়ে কাড়াকাড়ি

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ২২, ২০২০, ৩:২৯ অপরাহ্ণ

প্রায় দুই দশক আগে বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির একটি প্রতিবেদন দেখে ঢাকা শহরের বহু এলাকার মানুষ নিজ উদ্যোগে ঢাকনাযুক্ত প্যডেল ভ্যানে ময়লা অপসারনের উদ্যোগ নেয়।

ময়লা সংগ্রহকারীরা প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ডাসবিনে ফেলে আসতো। এ জন্য পরিবার প্রতি ১০ টাকা নেয়া হতো। এই টাকা বেড়ে বর্তমানে ১০০ টাকা হয়েছে।

এলাকাভিত্তিক এই ময়লা অপসারনের কাজে যত টাকা খরচ হয়, প্রতিটা পরিবার থেকে ১০০ টাকা করে নিলে এর বহুগুন টাকা আদায় হয়। ফলে বহু সুযোগ সন্ধানী লোকের কাছে এটি লোভনীয় ব্যবসায় পরিনত করেছে।

কিন্তু আইন অনুযায়ী ঢাকা শহরের আবর্জনা অপসারনের দ্বায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। এ জন্য তারা ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ট্যাক্সও আদায় করে। ফলে একই ময়লা অপসারনের জন্য নাগরিককে ২ বার টাকা দিতে হচ্ছে।

সম্প্রতি এই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে সিটি করপোরেশন কর্তৃক এস এম সেলিম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে ময়লা সংগ্রহের দ্বায়িত্ব দেয়ায়। দ্বায়িত্ব পেয়ে তারা ঢাকা সিটির ডাস্টবিনগুলোতে ময়লা ফেলতে নিষেধ করছে। তারা বলছে টাকাও তাদের দিতে হবে, ময়লাও তাদের মাধ্যমেই ফেলতে হবে।

ফলে ঢাকা শহরের বিশাল একটি অংশ যেমন, ভাসমান দোকানদার, কাঁচা বাজারের দোকানদারসহ বহু মানুষ সরাসরি ডাস্টবিনে ময়লা ফেলতেন। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার পরে তারা সেটি ফেলতে পারছেন না। অনেক পরিবারের সবাই কর্মক্ষেত্রে চলে যান। তাই ময়লা ওয়ালাদের ময়লা দিতে পারেন না।

তাদের দাবী সিটি করপোরেশনের দ্বায়িত্ব হচ্ছে এই ময়লা অপসারন। এর জন্য তারা ট্যাক্সও নেন। এখন নাগরিককে ময়লা ফেলতে না দিলে সেটা হবে আইনের পরিপন্থী।

জানা গেছে, সেলিম এন্টারপ্রাইজে বছরে মাত্র ১২ লাখ টাকায় সরকার থেকে এই লিজ নিয়েছেন। তবে প্রতিমাসে একটি ওয়ার্ড থেকেই প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা শহরে রয়েছে প্রায় ৫৬টি ওয়ার্ড। সেই হিসেবে সরকারকে শতগুন কম টাকা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

অন্যদিকে নতুন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত লোকেরা বলছেন, সিটি করপোরেশনের ট্যাক্স দেয় শুধু বাড়ির মালিক। আগে প্রতিটি পরিবার থেকে ১০০ টাকা নেয়া হতো এখন প্রতিটি বাড়ি থেকে ১০০ টাকা নেয়া হবে। সেই হিসেবে পরিবার প্রতি টাকা কমে আসবে।

আগে বিভিন্ন এলাকার ময়লা বিভিন্ন সময়ে ফেলা হতো। কিন্তু সিটি করপোরেশনের গাড়ি একটি নির্দিষ্ট সময়ে তা অপসারন করতো। এতে ডাস্টবিনে ময়লা জমে থাকতো। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান এর দ্বায়িত্ব নিলে অব্যবস্থাপনা কমে আসবে।
এ কাজ যদি আইন পরিপন্থি হয় তাহলে আইন সংশোধন করা উচিৎ বলেও মনে করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × 2 =