Templates by BIGtheme NET
১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৮ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১২ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » সারাদেশ » সিলেটে রায়হান হত্যা : বরখাস্তকৃত এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় এসআই হাসানকে নেয়া হয়েছে পুলিশ হেফাজতে

সিলেটে রায়হান হত্যা : বরখাস্তকৃত এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা করায় এসআই হাসানকে নেয়া হয়েছে পুলিশ হেফাজতে

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ২১, ২০২০, ৬:২৭ অপরাহ্ণ

সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় বরখাস্তকৃত এসআই আকবরকে পালাতে সহায়তা ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করার অভিযোগে এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে সিলেট মহানগর পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-উত্তর) আজবাহার আলী শেখ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আসরাফ উল্লা তাহের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১০ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে রায়হানকে তুলে নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানাধীন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। সকালে তিনি মারা যান। নির্যাতন করার সময় তৌহিদ মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্যের মুঠোফোন থেকে রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে টাকা চাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা সকালে ফাঁড়ি থেকে হাসপাতালে গিয়ে রায়হানের মরদেহ শনাক্ত করেন।

ঘটনার শুরুতে ওই ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ছিনতাইকারী সন্দেহে নগরের কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হয়েছেন বলে প্রচার চালান। কিন্তু গণপিটুনির স্থান হিসেবে যে কাস্টঘর এলাকার কথা বলেছিল পুলিশ- সেখানে সিটি কর্পোরেশনের স্থাপন করা সিসিটিভির ক্যামেরায় ওই সময়ে এমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।

এছাড়া গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কাস্টঘরের সুইপার গলির চুলাই লাল দাবি করেন- গত শনিবার রাতে তার বাসা থেকে সুস্থ অবস্থায় রায়হানকে ধরে নিয়ে যায় বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশ।

এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর রাত আড়াইটার দিকে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে পুলিশ সদস্যরা নির্যাতন করে তার স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ এনে মামলা করেন।

পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে আলোচিত এই মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতেই এই মামলার নথি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে মহানগর পুলিশ। এরপর পিবিআই কর্মকর্তারা বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে যান এবং ঘটনার আলামত সংগ্রহ করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রায়হানের মরদেহ উত্তোলন করে পিবিআই। পরে পুনরায় ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে ফের তার মরদেহটি নগরের আখালিয়ার নবাবি মসজিদ সংলগ্ন পঞ্চায়েতি গোরস্থানে দাফন করা হয়।

মারা যাওয়ার পর রায়হানের শরীরে বিভিন্ন স্থানে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার দুই হাতের তিনটি আঙুলের নখও উপড়ানো ছিল। এ ঘটনার পর পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতন করে রায়হানকে মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠে।

রায়হানের মৃত্যুর জন্য দায়িত্বহীনতার দায়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

এর মধ্যে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পুলিশ লাইন্স থেকে পালিয়ে যান। তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। বাকি ছয়জন পুলিশ লাইন্সে রয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

9 + eighteen =