Templates by BIGtheme NET
১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » ধীরে ধীরে স্বপ্ন বাস্তব হচ্ছে
রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্রাংশ

ধীরে ধীরে স্বপ্ন বাস্তব হচ্ছে
রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্রাংশ

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ২১, ২০২০, ৩:২০ অপরাহ্ণ

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের হার্ট বা মূল যন্ত্রাংশ নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল (পারমাণবিক চুল্লি) ও একটি স্টিম জেনারেটর মোংলা সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছেছে।

২০ অক্টোবর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্ততিতে বলা হয়, গত ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টায় সমুদ্রপথে রাশিয়ার ভলগা থেকে জাহাজে করে ১৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় মূল ইক্যুইপমেন্ট দুটি মোংলা সমুদ্র বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পৌঁছেছে। এ প্রকল্পটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

বিশেষ এ ইক্যুপমেন্ট রাশিয়ার সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে বাংলাদেশের স্থানীয় বিশেষ বার্জে স্থানান্তর করা হবে। আগামী ৫ নভেম্বর  মোংলা থেকে যাত্রা শুরু করে নদীপথে চাঁদপুর হয়ে ২১ নভেম্বর পদ্মাপাড়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় নবনির্মিত রূপপুর নৌ-বন্দরে পৌঁছাবে।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক পরমাণু বিজ্ঞানী ড. শৌকত আকবর বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হার্ট বা মূল যন্ত্রগুলো প্রকল্পে আনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে স্থাপন করা হবে।

রূপপুর প্রকল্পের নকশা ও নির্মাণ কাজ রাশিয়ান পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন হচ্ছে। নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্ত যন্ত্রপাতি রাশিয়ায় তৈরি হচ্ছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) নিজস্ব মেশিন উৎপাদনকারী কারখানাগুলো এ যন্ত্রপাতি তৈরি করছে।

এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে যে রিঅ্যাক্টর দু’টি স্থাপন করা হবে তা রাশিয়ার সবশেষ উদ্ভাবিত ভিভিইআর-১২০০। এতে সর্বাধুনিক থ্রি প্লাস প্রজন্মের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে রাশিয়ার ভিভিআইর ১২০০ মডেলের দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ১২০০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটটি আসবে ২০২২ সালে। আর ২০২৩ সালে দ্বিতীয় ইউনিটটি আসবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) দলিলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা হিসেবে উল্লেখ করে। এর মধ্যে রাশিয়া ১ হাজার ৩২০ কোটি ডলারের ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে বাংলাদেশকে দেবে। বাকি ১০ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার যোগান দেবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন- রোশাটমের মতে, রাশিয়ার বৃহত্তম পারমাণবিক প্রকৌশল উৎপাদক ভলগডনস্কে ” এটমমাশ” প্লান্টে তৈরি করা হয় যন্ত্রাংশ দুটি। এগুলোর মোট ওজন ৬৭৩.৬ টন।  এর মধ্যে চুল্লীর ওজন ৩৩৩.৬ টন ও স্টিম জেনারেটর ওজন ৩৪০ টন। চুল্লিটির আয়ুষ্কাল ৬০ বছর।

জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম তৈরির কাজও পুরোদমে চলছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে দেশের বিদ্যুতের প্রয়োজনীয় ৯ শতাংশ চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উভয় চুল্লি কার্যকর হলে পরবর্তী দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর নির্ভরতা হ্রাস করবে।

রূপপুরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ শক্তি জোরদার করার ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানের পরেই এশিয়ার তৃতীয় দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × 1 =