Templates by BIGtheme NET
১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৭ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১১ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » ভাইরালের দুষ্ট চক্রে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

ভাইরালের দুষ্ট চক্রে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ২০, ২০২০, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

গত ৫ অক্টোবর সাভারের ব্যবসায়ী রবিউল কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি যখন বাসে উঠলেন তখন বাস ভর্তি যাত্রী ছিলো। পরে দেখা গেল তারা কেউ যাত্রী নয়, সবাই ডাকাত দলের সদস্য। পরদিন একটি ঝোপের আড়ালে রবিউলের লাশ পাওয়া গিয়েছিলো।

১৩ অক্টোবর গ্রেফতার হয় ডাকাত দলটি। গ্রেফতারের পর ডাকাত সর্দার পুলিশকে জানিয়েছেন, ডাকাতির এই নতুন কৌশল তিনি শিখেছেন ভারতের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ক্রাইম পেট্রোল থেকে। নতুন এই কৌশল অধিক কার্যকর বলেও জানান তিনি।

টিভিতে দীর্ঘদিন ধরেই এই অনুষ্ঠান চলছে। আর অপরাধীরা নিত্য নতুন কৌশল শিখছেন এই অনুষ্ঠান থেকে। আর জনপ্রিয় বলেই নির্মাতারা অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর।

জনপ্রিয়তা পাওয়া, ভাইরাল হওয়ার নেশা আমাদের সবাইকেই গ্রাস করছে। তাই ভাইরাল হতে গিয়ে আমরা বেপরোয়া হয়ে উঠছি। বিশেষ করে বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ আর কিছু পোর্টাল ঘুরলেই দেখা যায় এই ভাইরাল রোগ।

বিশ্বে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার পরেই সবচেয়ে প্রফিটেবল ব্যবসা হচ্ছে পর্ণ সাইটের ব্যবসা। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। কিন্তু এখানে যৌনতা একটি গোপন বিষয় হওয়ায় একে একটি ভদ্রতার মুখোশ দেয়া হচ্ছে।

একি করলেন………তিনি?
এমন একটা শিরোনাম দিয়ে আমাদের ইউটিউবাররা একে একে যৌনতার দৃশ্য তুলে ধরেন। তিনি এটা ঠিক করেন নি…….. আমাদের মতো দেশে এসব পোশাক পড়া উচিত না……..দেশ জাহান্নামে চলে যাচ্ছে…….. এমন ধারাভাষ্যের মাঝেই চলতে থাকে পর্ণ ভিডিও। হুহু করে বাড়তে থাকে তার লাইক, ভিউ আর সাবসক্রাইবার।

ওই ইউটিউবার আসলে আমাদের সচেতন করছেন না। সচেতনতার মুখোশে তিনি এক ধরণের পর্ণ ব্যবসা করছেন। চিত্রজগত, রাজনীতি, ধর্ম কোনটাই রেহাই পাচ্ছে না এই ইউটিউবারদের হাত থেকে।

ধর্মীয় বিতর্ক আমাদের দেশে বড় একটি স্থান দখল করে আছে। আর এটিকে পূঁজি করে এক শ্রেনীর ইউটিউবার চালাচ্ছে ধর্ম ব্যবসা। যে যা বলেননি, তাকে দিয়ে তাই বলানো হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে বিতর্ক। সেই সঙ্গে বাড়ছে লাইক, ভিউ আর সাবসক্রাইবার।

রাজনৈতিক সংবাদের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে রুপকথা। সেসব সংবাদে মুহুর্তেই আসছে হাজার হাজার কমেন্ট, বাড়ছে ভিউ। লাভবান হচ্ছে পোর্টাল।

যে কথা সাংবাদিক, পুলিশ, বা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ জানে না সেইসব গোপন কথা ইউটিউবে অবশ্যই পাওয়া যাবে। রাষ্ট্রীয় গোপন নথি, বিশ্ব নেতৃবৃন্দের হাড়ির খবরও থাকে ইউটিউবে। বলা বাহুল্যে, এসবই মিথ্যার ওপর ভর করে বানানো হয়। মানুষের মন মর্জি বুঝে বানানো এসব ভিডিও মানুষ বিশ্বাসও করছে।

ন্যায়-অন্যায়, উচিত অনুচিতের পরোয়া করছে না তারা। যে করেই হোক ভাইরাল হওয়াই তাদের মূল টার্গেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three + sixteen =