Templates by BIGtheme NET
১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৭ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১১ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » আইন- আদালত » দেশের ইতিহাসে ৭ কার্যদিবসে ধর্ষণের রায়ে আইনজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দেশের ইতিহাসে ৭ কার্যদিবসে ধর্ষণের রায়ে আইনজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ২০, ২০২০, ২:৫৭ অপরাহ্ণ

বাগেরহাটের মংলা উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে আব্দুল মান্নান সরদার (৫৩) নামে একজনকে বিশ হাজার টাকা জরিমানাসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মামলা আদালতে আসার সাত কার্যদিবসের মধ্যে এই রায় ঘোষণা করা হয়। বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর জেলা ও দায়রা জজ মো. নূর-ই-আলম ১৯ অক্টোবর এই রায় দেন।

দেশের ইতিহাসে এটি ফৌজদারী মামলার সবচেয়ে দ্রুত কোনো মামলার রায়। এ মামলার রায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে আইনজ্ঞদের মধ্যে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রণজিৎ কুমার মণ্ডল এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এটি ধর্ষকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।

শিশুটির মা ও মামলার বাদী শিশুটির মামাও এই রায় নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী লিয়াকত হোসেন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন।

দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে সরকারের আন্তরিকতার প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে মনে করেন অধিকাংশ আইনজীবী।

তবে বিচার কার্যক্রম যদি তাড়াহুড়োর মধ্যে দিয়ে পরিচালিত হয় তবে তা প্রশ্নের জন্ম দেবে বলে মনে করেন কিছু আইনজীবী।

বিধি অনুসারে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে দায়ের করা যে কোনও মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে।

এ সম্পর্কে মহিলা উন্নয়ন ফোরামের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রিজিয়া পারভীন বলেন, তথ্য প্রমাণাদী ও প্রক্রিয়া খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা যায় বাগেরহাটের রায়ই তার প্রমাণ।

বাগেরহাটের আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল বলেন, ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি উত্থাপনের পরে আমরা থেমে নেই। আমরা মামলাগুলো শুনানি ও নিষ্পত্তি করার জন্য প্রসিকিউটরদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি বারবার বলেছি যে সরকার দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন জেডআই খান পান্না বলেন, বিচার বিভাগের ইতিহাসে এতো অল্প সময়ের মধ্যে কোনও ফৌজদারি মামলার বিচার হয়নি।

পান্না আরও বলেন, ” বাগেরহাট মামলার বিচারের কার্যক্রম যদি নির্দ্বিধায় অনুষ্ঠিত হয়, তবে এটি প্রশংসা করার মতোব। যদি এটি যথাযথভাবে না করা হয় তবে এটি মেনে নেওয়া যায় না। এ রায়ের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে যে বিচারের কার্যক্রম সত্যিই দ্রুত সম্পন্ন করা যেতে পারে।’’

ফৌজদারী আইন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা আইন রিপোর্টসের সম্পাদক (ডিএলআর) খুরশিদ আলম খান বলেন, বাগেরহাট মামলার বিচার হলো বাংলাদেশের ইতিহাসের বিরল ঘটনা। মামলাটি অবশ্যই সুষ্ঠু ও ত্রুটিমুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে। সবকিছু যদি ঠিকঠাকভাবে হয়ে থাকে তবে মামলাটির নিষ্পত্তি প্রশংসনীয়।”

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর মংলার মাকর্ডন গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা আবদুল মান্নান সেখানেরই বাসিন্দা সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ করেন। রাতেই শিশুটির মামা মামলা দায়ের করলে পুলিশ আসামি আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করে।

জুডিশিয়াল আদালত মামলাটি বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ রেফার করেন গত ১১ অক্টোবর। ট্রাইব্যুনাল ওই দিনই মামলা আমলে নিয়ে পরের দিন অভিযোগ গঠন করে।

এরপর গত ১৩ অক্টোবর বাদীপক্ষের ১৬ জনের সাক্ষ্য এবং পরের দিন চিকিৎসক, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সদস্য ও তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

১৫ অক্টোবর অভিযুক্তের সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয়। গত ১৮ অক্টোবর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ১৯ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × 3 =