Templates by BIGtheme NET
১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৭ নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১১ রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
Home » আন্তর্জাতিক » বঙ্গোপসাগরে চীন ও ভারতের সাবমেরিন কূটনীতি তুঙ্গে

বঙ্গোপসাগরে চীন ও ভারতের সাবমেরিন কূটনীতি তুঙ্গে

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৮, ২০২০, ৭:১৬ অপরাহ্ণ

প্রথমবারের মতো কোনো সাবমেরিনের মালিক হলো মিয়ানমার নৌবাহিনী। তিন হাজার টন ওজনের কিলো ক্লাস সাবমেরিনটি ছিল ভারতীয় নৌবাহিনীর। ১৫ অক্টোবর এটি মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করে ভারত।

১৯৮৮ সালে ভারতীয় নৌ বহরে যুক্ত হয়েছিল সাবমেরিনটি। সম্প্রতি ভারত এটি সংস্কার করে যা মিয়ানমার নৌবহরে চালু থাকবে ২০৩০ পর্যন্ত।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্বয়ম্ভর করে তোলার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মিয়ানমারকে সাবমেরিনটি বিক্রি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিপত্তিকে ঠেকানোর উদ্দেশ্য থেকেই মিয়ানমারকে সাবমেরিনটি দিয়েছে ভারত। তিন বছর আগে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের দুটি সাবমেরিন ক্রয়ের ঘটনায় বঙ্গোপসাগরে বেইজিংয়ের আরো প্রভাবশালী হয়ে ওঠার আশঙ্কায় পড়ে যায় ভারত।

টর্পেডো ও মাইন দিয়ে সুসজ্জিত ‘নবযাত্রা’ও ‘জয়যাত্রা’ নামের মিং ক্লাস সাবমেরিন দুটি শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনকে আক্রমণ বা মোকাবেলা করতে সক্ষম। শুধু ক্রয় নয়, সম্প্রতি কুতুবদিয়ার পেকুয়ায় সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজও পেয়েছে চীন।

এ বিষয়গুলোই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ভারতকে। দেশটির আশঙ্কা, এর মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে চীনের সক্রিয় উপস্থিতি বাড়ছে। ফলে চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্রয়ের পর বিষয়টি নিয়ে ভারতের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়।

সম্প্রতি ভারতের একটি গণমাধ্যমকে বলা হয়, ‘যন্ত্রাংশ ও অস্ত্রের জন্য চীনের ওপর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নির্ভরশীলতা ভারতের পূর্ব উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ নৌ স্থাপনা ও বিশাখাপত্তনমে উন্নয়নাধীন ভারতীয় নিউক্লিয়ার সাবমেরিন ঘাঁটির কাছাকাছি বেইজিংয়ের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ করে দেবে।

অন্যদিকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবমেরিন ঘাঁটি থেকে চীনা জাহাজ ও সাবমেরিনের রসদ ও জ্বালানি সংগ্রহের আশঙ্কাটিকেও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।’

বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্রয়ের পর মিয়ানমারও এ নিয়ে আগ্রহ দেখাতে থাকে। বিষয়টি আবারো ভাবতে বাধ্য করে ভারতকে। দেশটির আশঙ্কা ছিল, বাংলাদেশের দেখাদেখি মিয়ানমারও যদি চীন থেকে সাবমেরিন কেনার উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা বঙ্গোপসাগরে চীনের উপস্থিতি আরো বিপজ্জনক মাত্রায় বাড়িয়ে তুলবে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বাড়ানোর তাগিদ থেকে মিয়ানমারের ওপর প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে আগে থেকেই একধরনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল ভারত ও চীন। দুই দেশই মিয়ানমারে বড় বড় কয়েকটি বন্দর উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্রয়ের পর ভারতও মিয়ানমারে সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ বাড়াতে থাকে। ২০১৭ সালেই মিয়ানমারকে লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় টর্পেডো সরবরাহ করে ভারত। সম্প্রতি মিয়ানমারকে ৬০০ কোটি ডলারের একটি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার নির্মাণেরও প্রস্তাব দেয় ভারত।

চীন বর্তমানে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরের সংযোগস্থল মালাক্কা প্রণালিতে নিজের নৌশক্তি বাড়িয়ে চলেছে। দক্ষিণ আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ থেকে এ প্রণালির দূরত্ব মাত্র ২০০ কিলোমিটার।

এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে গাদার বন্দর উন্নয়নের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরে নিজের উপস্থিতি আরো দৃশ্যমান করে তুলেছে চীন।

জিবুতিতে এরই মধ্যে একটি সামরিক ঘাঁটিও স্থাপন করেছে দেশটি। পাশাপাশি শ্রীলংকার হাম্বানটোটা বন্দর ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেয়ার পাশাপাশি তাঞ্জানিয়া ও মিয়ানমারেও গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে দেশটি।

এর বাইরে মালদ্বীপেও ৫০ বছরের জন্য একটি দ্বীপ ইজারা নিয়েছে চীনা একটি বেসরকারি কোম্পানি। আশঙ্কা রয়েছে, এটিকেও সামরিক ক্রিয়াকলাপে ব্যবহার করা হতে পারে।

ভারত মহাসাগরে চীনের এ আগ্রাসী নীতির প্রয়োগ নয়াদিল্লিকে কূটনৈতিক মেরুকরণের দিক থেকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করছে।

এ হুমকি মোকাবেলার জন্য এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও গোয়েন্দা উড়োজাহাজ মোতায়েন করে রেখেছে ভারত। এ অঞ্চলের ওপর নজরদারি বাড়াতে এরই মধ্যে সাবমেরিন অপটিক্যাল ফাইবার কেবল সংযোগও নির্মাণ করেছে ভারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × five =