Templates by BIGtheme NET
৫ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২১ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ৩ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » রোহিঙ্গারা কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে যেসব বাড়তি সুবিধা পাবেন

রোহিঙ্গারা কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে যেসব বাড়তি সুবিধা পাবেন

প্রকাশের সময়: অক্টোবর ১৭, ২০২০, ১:০৮ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গারা বর্তমানে কক্সবাজারে যে পরিবেশে রয়েছেন, তার তুলনায় ভাসানচরে আবাসনসহ অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো ও নিরাপদ। বর্তমানে কক্সবাজারে বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা বাঁশ ও টারপলিনের তৈরি ঘরে বসবাস করছেন। ভাসানচরে তৈরি করা হয়েছে মানসম্পন্ন ক্লাস্টার হাউস। ইউএনএইচসিআরের স্ট্যান্ডার্ড মেনে প্রতিটি ঘরের জন্য ৩ দশমিক ৯ বর্গমিটার জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফে অধিক জনবলের কারণে দিন দিন পানির স্তর কমছে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থা সীমিত। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থা ছাড়াও পুকুর, খালের পানির ব্যবস্থা আছে ভাসানচরে। আবার বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে।

বর্তমানে কক্সবাজারে গড়ে আনুমানিক ২০ ব্যক্তির জন্য একটি টয়লেট ও ৮০ জনের জন্য একটি বাথরুম আছে। ভাসানচরে বিদ্যমান ব্যবস্থায় ১১ জনের জন্য একটি টয়লেট ও ১৬ জনের জন্য একটি বাথরুম ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্যগুদামের অভাব, জায়গার সীমাবদ্ধতা ছাড়াও খাদ্য পরিবহন ব্যবস্থায় জটিলতা আছে। ভাসানচরে বিশাল চারটি গুদামঘর তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নেই, স্ট্রিট লাইট অনুপস্থিত। কিন্তু ভাসানচরে ডিজেল জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরশক্তির মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, হাউস সোলারের ব্যবস্থা বিদ্যমান।

কক্সবাজারে জীবিকা নির্বাহের তেমন কোনো ভালো ব্যবস্থাও নেই। অন্যদিকে ভাসানচরে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, মহিষসহ অন্যান্য পশু পালন ও পনির প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য চাষ, পর্যটন শিল্প স্থাপন, অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণের সুযোগ রয়েছে। আবার কক্সবাজারের উচ্চ বনাঞ্চল এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়, উচ্চ বায়ুদূষণ, মাটিক্ষয়, ভূমিধস, ভূগর্ভস্থ পানিদূষণের কারণে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।

তবে ভাসানচরে রয়েছে বনায়নের বিশাল সুযোগ, মাটিক্ষয়, বায়ুদূষণের আশঙ্কা নেই। ভূমিধসের ঝুঁকিও থাকবে না। আবার কক্সবাজারে যানজট, সড়ক যোগাযোগ সীমিত, রাস্তা নির্মাণ ব্যয়বহুল। কিন্তু ভাসানচরে পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং সব আশ্রয়কেন্দ্রে যানবাহন যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা রান্নার কাজে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বনের ওপর নির্ভরশীল। ভাসানটেকে রোহিঙ্গাদের জন্য বায়োগ্যাস প্লান্টের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব চুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

12 − four =