Templates by BIGtheme NET
৯ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২৫ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন
চাকরির বাজারে প্রতারক চক্রের কৌশল

সতর্ক অবস্থানে প্রশাসন
চাকরির বাজারে প্রতারক চক্রের কৌশল

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০, ৯:১৪ অপরাহ্ণ

করোনার ধকল কাটিয়ে সবেমাত্র চাঙ্গা হতে শুরু করেছে দেশের চাকরির বাজার। তবে এরইমধ্যে কিছু অসাধু প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে পড়েছে সারা দেশে। কৌশলে তারা বিভিন্ন প্রার্থীকে চাকরি দেওয়ার টোপ দিচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সতর্কতামূলক অবস্থানে রয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

ইতোমধ্যে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ আরও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। আর এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে চাইছে প্রতারক চক্ররা।

সম্প্রতি এই ধরনের প্রতারক চক্রের অন্তত পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে, নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির উপর ভর করে চক্রের সদস্যরা চাকরিপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন টোপ দিয়ে আকৃষ্ট করে। আর প্রতি পদের জন্য তারা পাঁচ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করে।

প্রতারকদের কৌশল নিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতারকদের কারসাজিতে একজন চাকরিপ্রার্থী মোট পাঁচ ধাপে বিক্রি হন। এ জন্য একেক ধাপের সদস্যরা আলাদা আলাদা কমিশন পায়।

প্রতারণার প্রথম ধাপটি নিয়ে তিনি বলেন, একটি দল নির্দিষ্ট জেলায় চাকরিপ্রার্থী খুঁজে বের করে। ঢাকায় বড় সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় থাকার দাবি করে কৌশলে প্রার্থীকে আকৃষ্ট করে ঢাকায় পাঠানোর কাজ করে থাকে।

পরের ধাপের নাম `ব্যবস্থাপনা টিম`। প্রমোটার চাকরিপ্রার্থীকে এই টিমের কাছে হস্তান্তর করে নিজের কমিশন নিয়ে নেয়। ব্যবস্থাপনা টিমের সদস্যরা প্রার্থীর কাগজপত্র যাচাই করে। এরপর এই গ্রুপটি চাকরি দিতে লিখিত চুক্তি করে।

তৃতীয় ধাপে রয়েছে `ভাইভা টিম`। ব্যবস্থাপনা টিমের সদস্যরা এই টিমের কাছে চাকরিপ্রার্থীকে কথিত লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভার জন্য হস্তান্তর করে। তারা `বিশেষ ব্যবস্থায়` প্রার্থীর লিখিত ও ভাইভা নেয়। এরপর প্রার্থীকে পাঠানো হয় `মেডিকেল টিমের` কাছে। তারা নির্ধারিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রার্থীর কথিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়। পরে সব কাগজপত্রসহ শেষ ধাপ `বস টিম` বা `হাই অফিসিয়াল টিমে`র সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়।

এই টিমের সদস্যরা নিজেদের বিভিন্ন সংস্থার বড় কর্মকর্তা বা সরকারি অফিসের যুগ্মসচিব পরিচয় দেয়। তারা ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে চুক্তি অনুযায়ী সব টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ভুয়া নিয়োগপত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

1 + one =