Templates by BIGtheme NET
৪ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২০ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি
Home » অর্থনীতি » আছে সিডিপির শর্ট লিস্টে
করোনা কি বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হতে বাধা?

আছে সিডিপির শর্ট লিস্টে
করোনা কি বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হতে বাধা?

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০, ৩:২৩ অপরাহ্ণ

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপারিশ করবে। তবে এই যাত্রায় বাংলাদেশের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা। যদিও সিডিপির ৫ শর্ট লিস্টে রয়েছে বাংলাদেশের নামও।

সিডিপির তথ্য অনুযায়ী, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকের দুটিতে আগের তিন বছরে ধারাবাহিকতা থাকলেই কোনো এলডিসিকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দেওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। তবে এবারে ওই তিন সূচকের বাইরে করোনার প্রভাবও মূল্যায়ন করা হবে। ১৪ সেপ্টেম্বর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিডিপি।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করতে পাঁচটি দেশকে বাছাই তালিকায় রেখেছে সিডিপি। আগামী বছরের ২২-২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রিবার্ষিক সভায় বিষয়টি মূল্যায়ন করবে সিডিপি। ওই তালিকায় বাংলাদেশও আছে। অপর চারটি দেশ হলো নেপাল, মিয়ানমার, লাওস ও তিমুর লেসেথো। এর মধ্যে নেপাল ও তিমুর লেসেথো ২০১৮ সালেই সুপারিশ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিডিপি ওই দুই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই না হওয়ায় সুপারিশ করেনি।

২০১৮ সালে সিডিপির ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকের তিনটিতেই নির্ধারিত মান অর্জন করে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার শর্ত পূরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পরের তিন বছরে এসব সূচকের ধারাবাহিকতা দেখে এখন চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করার কথা সিডিপির। সিডিপি আগামী বছর সুপারিশ করলেও বাংলাদেশকে আরও তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেওয়া হবে জাতিসংঘের ২০২৪ সালের সাধারণ অধিবেশনে।

এদিকে, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার কারণে বাংলাদেশের দারিদ্রের হার বেড়েছে। সে সাথে বেড়েছে তরুণদের বেকারত্ব, আর পিছিয়েছে মানবসম্পদ সূচকেও। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) বলেছে, ২০১৯ সালে শেষ দিকে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার কমে দাড়ায় ২০ শতাংশে। কিন্তু করোনার কারণে দারিদ্র্যের হার বেড়ে এখন ৪৩ শতাংশ হয়েছে। যদিও সিপিডির হিসাবে এই হার ৩৫ শতাংশ।

এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে তরুণদের বেকারত্ব ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। করোনার আগে এই হার ছিল ১২ শতাংশ। আর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের মানবসম্পদ সূচকেও আগের চেয়ে পিছিয়েছে বাংলাদেশ। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের একজন শিশু উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে তার সম্ভাবনার ৪৬ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারে, যা ২০১৮ সালে ছিল ৪৮ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × 1 =