Templates by BIGtheme NET
৬ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২২ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি
Home » বিশেষ সংবাদ » অব্যহত ভাঙন ও পানি বৃদ্ধি: বিপাকে ৪ নদী পাড়ের মানুষ

অব্যহত ভাঙন ও পানি বৃদ্ধি: বিপাকে ৪ নদী পাড়ের মানুষ

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০, ১২:১৯ অপরাহ্ণ

গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধায় করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘটসহ জেলার সবগুলো নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অসময়ে আকস্মিক এই বন্যায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, যমুনা নদীর পানি কমলেও তীব্র ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের কয়েকটি এলাকার মানুষ। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাধ নির্মানের দাবী জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি সহ এলাকাবাসী।

জানা যায়, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পলাশবাড়ি উপজেলায় কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের টোংরাদহের ২টি পয়েন্টে ৯০ ফুট বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ৬টি গ্রাম আকস্মিকভাবে প্লাবিত হয়েছে। ফলে বসতবাড়িসহ রোপা আমন ধান ও অন্যান্য ফসল তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডর সূত্রে জানা গেছে, বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি পয়েন্টে ২৯ সেপ্টেম্বর বিপদসীমার ৮১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমা ছুই ছুই করছে।

ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় ১ হাজার পরিবার তাদের গবাদী পশু পাখি নিয়ে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ৫ মে. টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।

এদিকে, দফায় দফায় বন্যার পর এবার যমুনা ও পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়েছে সিরাজগঞ্জ, টাইঙ্গাইল ও মুনসিগঞ্জের কয়েকটি এলাকার হাজার হাজার মানুষ। জানা যায়, যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচঠাকুরী, দুর্গম চৌহালি উপজেলা ও টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার চর পৌলী, কাকুয়া, হগড়া গয়রাগাছা, চকগোপাল, কাতুলি ও মাহমুদনগর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের জনগণ তীব্র ভাঙ্গন কবলে পড়েছেন। এতে ভাঙন আতঙ্কে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। জীবন জীবিকার সন্ধানে তারা দিশেহারা। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

পানি উন্নয়ণ বোর্ড বলছে, সিরাজগঞ্জ সদর এবং চৌহালীকে রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য মন্ত্রনালয়ে ইতোমধ্যে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে, অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। আর টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মানের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষকে যমুনা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা হবে।
অন্যদিকে, পদ্মার ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে মুনসিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নের নদীর পাড় ঘেষা পদ্মার শাখা ডহরী-তালতলা নদীর তীরবর্তী এলাকার গ্রামগুলো। হুমকীর মুখে রয়েছে খলাপাড়া গ্রামের একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মসজিদ ও খেলার মাঠ। ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাধ নির্মানের দাবী জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধি সহ এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty + 9 =