Templates by BIGtheme NET
৬ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২২ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » কিস্তি পরিশোধে ছাড় ডিসেম্বর পর্যন্ত
ব্যবসায়ীদের সুবিধায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

কিস্তি পরিশোধে ছাড় ডিসেম্বর পর্যন্ত
ব্যবসায়ীদের সুবিধায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

 

করোনায় বিধ্বস্ত অর্থনৈতিক দুর্যোগে ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দিতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের শিথিলতা ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এতে ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি ও সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে আগামী অর্থবছরে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ না করলেও কোনো ঋণ খেলাপি না করার নির্দেশনা দেয়া হয় মার্চের শেষ সপ্তাহেই। পরে এ সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যবসায়ী ও খেলাপি ঋণ কম এমন ব্যাংকগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের দাবি এবং সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ঋণের শ্রেণীমান যা ছিল, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে উক্ত ঋণ তদাপেক্ষা বিরূপমানে শ্রেণীকরণ করা যাবে না। তবে কোনো ঋণ শ্রেণীমানের উন্নতি হলে তা যথাযথ নিয়মে শ্রেণীকরণ করা যাবে। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যমান মেয়াদি ঋণের বিপরীতে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর সময়কালীন প্রদেয় কিস্তিগুলো বিলম্বিত হিসেবে বিবেচিত হবে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো কিস্তি পরিশোধিত না হলেও ওই কিস্তিগুলোর জন্য মেয়াদি ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

শ্রেণীকরণের সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করায় ভালো গ্রাহকরাও ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করবেন না বলে মনে করেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক মঈনউদ্দীন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে ঋণ পরিশোধে বাধ্যবাধকতার সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনার ফলে এ বছর কোনো ঋণ খেলাপি হওয়ার সুযোগ থাকল না। এতে সমস্যাগ্রস্ত ঋণগুলো চিহ্নিত হবে না। ব্যাংকগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে ২০২১ সালে। আগামী বছর খেলাপি ঋণ এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতার সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা বেড়ে গেলে তা হিতে বিপরীত হবে। বেশি ডিভিডেন্ড দিয়ে পরিচালকরা বেসরকারি ব্যাংক থেকে মুনাফার অর্থ বের করে নেবেন। এতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত দুর্বল হবে। এজন্য সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর মুনাফা পরিস্থিতি দেখেই শ্রেণীকৃত ঋণের সময় গণনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি ভাবছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকারের নির্দেশনাই মেনে নিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twelve + 3 =