Templates by BIGtheme NET
৬ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২২ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি
Home » বিনোদন » জাফর ইকবাল
অসময়ে এসে, অসময়েই চলে গিয়েছিলেন যে নায়ক

জাফর ইকবাল
অসময়ে এসে, অসময়েই চলে গিয়েছিলেন যে নায়ক

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ

ঢাকাই চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি নায়কের সংখ্যা বেশি নয়। কিন্তু যারাই এসেছেন, তারাই চলে গিয়েছিলেন অসময়ে। তেমনই এক রুচিশীল নায়ক ছিলেন জাফর ইকবাল। তাকে ঘষে মেজে নায়ক বানাতে হয়নি। তিনি নায়ক হয়েই জন্মেছিলেন।

বাংলার নায়করা অভিনয়ে কলেজের অনুষ্ঠানে গান গাইতেন। কিন্তু তিনি বাস্তব জীবনে কলেজের অনুষ্ঠানে গান গেয়ে জনপ্রিয় হয়েছিলেন। এ যুগের অনেক নায়ক ইরেজিতে কথা বলতে না পারলেও সেই যুগে তিনি কলেজের অনুষ্ঠানে এলভিস প্রিসলির গান গাইতেন।

শুধু গান নয়, ব্যক্তিত্ব, স্টাইল সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক গল্পের রাজকুমার!

সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎবলেন, ‘জাফর ইকবালের রুচিবোধ ও ইন্টেলেকচুয়াল হাইট ছিলো নজরকাড়া। তার বাসার ‘শু’ র‌্যাকে ছিলো তিন শ রকমের জুতা। জুতার সঙ্গে মিল রেখে ড্রেস পরতেন।

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। ১৯৫০ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বড় বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী। বড় ভাই আনোয়ার পারভেজও বিখ্যাত সংগীত পরিচালক।

১৯৬৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি গড়ে তোলেন ব্যান্ড দল ‘রোলিং স্টোন’। ‘পিচ ঢালা পথ’ তাদের প্রথম গান। আনোয়ার পারভেজের সুরে রাজ্জাক অভিনীত ‘বদনাম’ ছবিতে তার প্রথম গান –‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’  ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান।

এরপর, ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী/ তুমি আমার জীবন, আমি তোমার জীবন/ হয় যদি বদনাম হোক আরও’ অন্যতম। এর মধ্যে ‘সুখে থাকো নন্দিনী’ গানটি গেয়ে দারুণ সাড়া ফেলেছিলেন।

কবরীর সঙ্গে তাঁর অভিনীত প্রথম ছবির ‘আপন পর’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালে। ‘সূর্য সংগ্রাম’ চলচ্চিত্রে ববিতার বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন। এরপর একে একে প্রায় দেড় শ ছবিতে অভিনয় করেন।

ববিতার সঙ্গে তাঁর জুটি ছিলো সবচেয়ে জনপ্রিয়। সে সময়ে জাফর ইকবাল আর ববিতার সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যেত। অনেকেই বলেন, ‘সুখে থেকো ও আমার নন্দিনী’ গানটি জাফর ইকবাল ববিতার জন্যই গেয়েছিলেন।

খুব অভিমানী এবং আবেগপ্রবণ ছিলেন জাফর ইকবাল। জীবনের শেষ দিনগুলো ছিলো অগোছালো। ববিতার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় পর জাফর ইকবাল অসুস্থ হয়ে পড়েন।

‘লক্ষ্মীর সংসার’ছিলো তার শেষ সিনেমা। এই ছবি মুক্তির মাত্র এক মাসের মাথায় ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। মৃত্যুর পর এই ছবির একটি ডায়লগ ‘ভাই আজিমপুর যাব কীভাবে’ মানুষকে ছুঁয়ে গিয়েছিলো। মৃত্যুর পর তার শেষ ঠিকানাও হয় আজিমপুর কবরস্থানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty + twenty =