Templates by BIGtheme NET
৬ কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ২২ অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি
Home » জাতীয় » তিন স্তর সিন্ডিকেটের ইশারায় চলছে স্বাস্থ্য খাতে

তিন স্তর সিন্ডিকেটের ইশারায় চলছে স্বাস্থ্য খাতে

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

তিন স্তরের সিন্ডিকেটের ইশারায় এখনো চলছে সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য খাতের কার্যক্রম। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনের পর সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য গ্রেফতার হলেও রাঘববোয়ালরা আড়ালে থেকেই কলকাঠি নাড়ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে বিভিন্ন অধিদফতর-দফতরে উচ্চ, মাঝারি ও নিচের স্তরে বিশেষ সেটআপের মাধ্যমে চলছে এই সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা কাজ হাসিলের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসনিক সকল শাখায় নিজেদের পছন্দমতো প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্টোর কিপারের মতো পদগুলোতে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখে।

মন্ত্রনালয়ের কোন টেন্ডার হওয়ার আগেই এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা রেট ঠিক করে তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানকে কাজ বাগিয়ে দেয়।

বর্তমানে স্বাস্থ্য খাত ঠিকাদারদের পাঁচ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে। এরা হল- মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু, জাহের উদ্দিন সরকার, আফতাব আহম্মেদ, মুন্সী সাজ্জাদ হোসাইন ও আবজাল হোসেন। এ পাঁচজনের প্রত্যেকের পাঁচ থেকে ২০টি পর্যন্ত নামে-বেনামে কোম্পানি রয়েছে।

গত বছর স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবরক্ষণ শাখার কর্মচারী আবজাল গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে স্বাস্থ্য খাতের ১৯ মাফিয়া ঠিকাদারের নাম। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল স্বাস্থ্য খাতের সকল কাজ এই ঠিকাদাররাই পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাতের যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনার নামে জালিয়াতি করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় প্লট, বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তারা।

প্রায় একই অবস্থা সদ্য গ্রেফতার হওয়া শত কোটি টাকার মালিক গাড়িচালক মালেকের। গাড়িচালক সমিতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নামে তিনি দুর্নীতির রাজত্ব করেছেন অধিদফতরে। কিন্তু দুটি সংগঠনেরই কোনো নিবন্ধন ছিল না। তবে তার ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না।

এই সিন্ডিকেটের শীর্ষ স্তরের সদস্যরা হলেন এসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক, বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ ব্যক্তি, তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বিএমএ, ও স্বাচিপের প্রভাবশালী কিছু নেতা।

এ সিন্ডিকেট অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালয়েশিয়া, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে। গত পাঁচ বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ সিন্ডিকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two + 4 =