Templates by BIGtheme NET
১৫ আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১২ সফর, ১৪৪২ হিজরি
Home » বিশেষ সংবাদ » করোনার মৃত্যুতে স্বজনদের অমানবিকতা

করোনার মৃত্যুতে স্বজনদের অমানবিকতা

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০, ২:৩৩ অপরাহ্ণ

জন্মের পর থেকেই আকাশের ছায়া হয়ে ছিলেন বাবা। অথচ মৃত্যুর পর সেই বাবাই হয়েছেন অচেনা। করোনায় মৃত্যুবরণ করা এসব হতভাগ্যদের কোথায় দাফন করা হয়েছে তার খোঁজ রাখারও চেষ্টা করেননি সন্তানরা।

রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে করোনায় মৃত্যুবরণ করায় স্বজনদের এমনই অমানবিকতা ফুটে উঠেছে।

একটি দুটি নয়, খিলগাঁও কবরস্থানে মোট ৩৩টি কবর পড়ে আছে অনেকটা বেওয়ারিশ হিসেবে। ৬ মাসেও খবর নেয়া হয়ে উঠেনি স্বজনদের। এমনকি কবরস্থানের রশিদেও নেই বর্তমান ঠিকানা। মোবাইল নম্বরও দেয়া হয়েছে ভুল।

নিজের বাবার কবর বুঝে নেয়ার ব্যাপারে একজন স্বজন বলেন, ‘বুঝে নিবো কেমনে, যেই ভাইরাস ডর করে যাইতে। আর এমনিতেই আমরা অনেক সমস্যায় আছি। আমরাতো ভালো মতো জানিই না বাবারে কবর দিছে নাকি ফালাই দিছে।

অন্য একজন স্বজন বলেন, ‘করোনা রোগে মারা গেছে এটা আমরা কি বুঝে নিবো বলেন। এটাতো সরকারই করবে।’

একজন স্বজনকে ফোন করা হলে সে তো রেগে আগুন। বলেন, ‘ভাইয়া আমার কেউ নাই। আমার এই ফোন নম্বরটা রশিদে কে দিলো আমি বুঝলাম না।’

এদিকে, স্বজনরা খোঁজ না নিলেও প্রতিনিয়ত করবরগুলো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন কবরস্থানের মহরাররা। স্বজন না পাওয়ায় সেখানকার কবরগুলোতে বাঁশের চাটাই দিয়ে শনাক্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনটিতে জমেছে পানি। কোনটির নিশানাই পড়ে আছে পানিতে। কোনটি আবার হারিয়ে যেতে বসেছে ঘাসের নিচে।

এ বিষয়ে খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানের মহরার হাফেজ মোহাম্মদ নাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘একটা লোক যদি তার বাবা ও মায়ের কবর কোন জায়গায় আছে সেটা না বলতে পারে তাহলে এটা একজন সন্তানের চরম ব্যর্থতা। এই কষ্টটা সারা জীবন তাকে বয়ে বেড়াতে হবে। শীঘ্রই পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনদের কবর বুঝে নিবেন এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 + five =