Templates by BIGtheme NET
১৫ আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ , ১২ সফর, ১৪৪২ হিজরি
Home » বিবিধ » এক বাংলাদেশি নারীর আইএস বধূ হয়ে উঠার গল্প

এক বাংলাদেশি নারীর আইএস বধূ হয়ে উঠার গল্প

প্রকাশের সময়: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০, ৬:০৬ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তানিয়া জয়া। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা এই নারী ঘটনাচক্রে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর নেতা জন জর্জেলাসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে তারা বিয়েও করেন।

তানিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই চেয়েছিলাম একজন ব্রিটিশ হয়ে উঠতে; কিন্তু আমার পরিবার চেয়েছিল আমি যাতে পাশ্চাত্য সমাজ-সংস্কৃতি অনুসরণ না করে একজন ভালো মুসলিম নারী হই। ১৭ বছর বয়সে তানিয়া পরিবারের সঙ্গে পূর্ব লন্ডনে চলে যান।

ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এক চাচাত বোন তানিয়ার ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলে। তার থেকে খেলাফত সম্পর্কে অনেক কিছু শেখেন এবং অনলাইনে প্রচুর সৌদি আরবে ইসলামিক ফতোয়াও পড়েন তানিয়া।

২০০৩ সালে লন্ডনে ইরাক যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন তানিয়া। ওই সময় একটি মুসলিম ডেটিং ওয়েবসাইটে মার্কিন নাগরিক জন জর্জেলাসের সঙ্গে পরিচয় হয় তার।

অল্পদিনেই তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জন লন্ডনে এলে তাকে বিয়ে করেন তানিয়া। পরে জনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। সেখানে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়ার কিছু দিন পর জনের মধ্যে কট্টরপন্থী আচরণ দেখা দেয়। তানিয়ার স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা দিতে থাকেন জন।

পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপের ওয়েবসাইট হ্যাক করার অভিযোগে তিন বছরের সাজা হয় জনের। ছাড়া পেয়ে জন তিন সন্তানসহ তানিয়াকে নিয়ে কিছুদিনের জন্য মিসর ও এর পর ইস্তাম্বুল চলে যান। জন সিরিয়ায় যাওয়ার কথা বললেও সন্তানদের নিয়ে যুদ্ধপীড়িত দেশে যেতে চাননি তানিয়া; কিন্তু তুরস্কে যাওয়ার নাম করে স্ত্রী-সন্তানদের সিরিয়ার সীমান্তে নিয়ে আসেন জন।

ওই সময় তানিয়া ফোনে জনের মাকে কোনো এফবিআই এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। এফবিআই তানিয়াকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে চরমপন্থি সংগঠনে তার যোগ দেয়ার অভিযোগ আনা হবে না শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান তানিয়া।

তানিয়া জানান, এফবিআইকে খবর দেওয়ায় জন তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে জনের করুণা হয় এবং আমাদের ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। রাস্তা অবরোধের কারণে তিন সপ্তাহ পর সন্তানদের নিয়ে রওনা দেন তানিয়া। কয়েক মাইল হেঁটে স্নাইপারদের গুলির মুখে ট্রাকে চড়েন। এমনকি যে লোকটি তাদের বাস স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার কথা দিয়েছিল, সেও তাদের মাঝপথে রেখে চলে যায়। পরে এক তুর্কি লোক তাদের সহযোগিতা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পর জনের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি তানিয়ার। সিরিয়ায় তিনি আরেকটি বিয়ে করেন বলে জানা যায়। পরে ২০১৭ সালে মার্কিন বোমা হামলায় ওই স্বামীর মৃত্যু হয়।

তানিয়া বর্তমানে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-এক্সট্রিমিজম গ্রুপ ‘ফেইথ ম্যাটার্স’-এর সঙ্গে কাজ করছেন। আবার বিয়ে করে টেক্সাসেই থাকছেন তিনি।

দ্য গার্ডিয়ানকে তানিয়া বলেন, শিক্ষাই হলো চরমপন্থা থেকে দূরে থাকার মূল চাবিকাঠি। শান্তিতে থাকার জন্য ভিন্ন মত ও ধারণার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

2 × 4 =