Templates by BIGtheme NET
২৬ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১০ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » যেভাবে কোরবানির পর মাংস সংরক্ষণ করবেন

যেভাবে কোরবানির পর মাংস সংরক্ষণ করবেন

প্রকাশের সময়: জুলাই ৩১, ২০২০, ৪:২০ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

দেখতে দেখতে চলে এলো ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। কোরবানির গরু বা খাসির মাংস দীর্ঘদিন ধরে খেতে প্রায় সবাই-ই সংরক্ষণ করে রাখেন। যাদের বাসায় ফ্রিজ আছে তাদের সমস্যা নেই, তবে যাদের নেই তারাও চাইলে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করতে পারবেন।

আপনি যদি ফ্রিজে মাংস রাখতে চান তবে মাংস আলাদা করার সময় কয়েকটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত। যে মাংসগুলো ফ্রিজে রাখবেন, সেগুলো শুরুতেই ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নেওয়া ভালো। তাতে চর্বি ছাড়াতে সুবিধা হয়। ফ্রিজে কোনোভাবেই রক্তসহ মাংস রাখা যাবে না। তরল রক্ত আগে ভালোমতো ঝরিয়ে নিয়ে তারপর মাংস ফ্রিজে রাখার জন্য প্যাকেট করুন।

মাংস ফ্রিজে রাখার আগে পানি দিয়ে না ধুতে চাইলে ফ্যানের বাতাসে একটু শুকিয়ে নেওয়ার পর রাখুন। জবাইয়ের পরপরই মাংস ফ্রিজে না রেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা ভালো। জবাইয়ের পর ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা মাংস শক্ত থাকে। এরপর মাংস ধীরে ধীরে নরম হয়। এ সময় মাংস প্যাকেট করে ফ্রিজে রেখে দিন।

মাংসে লবণ, ভিনেগার, মসলা মাখিয়ে ফ্রিজে রাখুন, এতে স্বাদ কিছুটা ভালো অটুট থাকবে। সাধারণত, ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় মাংস রাখা উচিত।

যাদের বাসায় ফ্রিজ নেই কড়া রোদে শুকিয়ে মাংস সংরক্ষণ করতে পারেন। এ জন্য মাংস সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা রোদে রেখে দিতে হবে। প্রথম কয়েকদিন প্রতিদিন, তারপর একদিন পরপর দিলেও মাংস ভালো থাকবে। তবে বর্তমানে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, এর ফলে প্রতিদিন কড়া রোদ পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। রোদ না থাকলে তাই এ চেষ্টা না করাই ভালো।

রোদে দেওয়া ছাড়া প্রতিদিন জ্বাল দিয়েও মাংস সংরক্ষণ করতে পারেন। এ জন্য প্রথমবার ১০০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় মাংস সিদ্ধ করুন। এর ফলে মাংসের মধ্যে থাকা নানা জীবাণু মরে যায়। এরপর নির্দিষ্ট একটি পাতিলে প্রতিদিন নিয়ম করে মাংস জ্বাল দিন। একবার ভালো মতো জ্বাল দিলে গরমকালে ১২ ঘণ্টা এবং শীতকালে ২৪ ঘণ্টা মাংস ভালো থাকে।

মাংস সংরক্ষণের আরেকটা সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি হলো- এক হাঁড়ি পানিতে হলুদ ও লবণ দিয়ে মাংসের বড় টুকরো হালকা সিদ্ধ করুন। এরপর কোনো চালুনি কিংবা কাপড়ে বেঁধে নিয়ে ঝুলিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে নিন। মাংস ঠাণ্ডা হলে ফ্রিজে রেখে দিন। কয়েকদিন পর বের করে পাটায় ছেঁচে রান্না করে খান।

মাংস ছাড়া কলিজা, মগজ, ভুঁড়ি, মাথা ও পায়া হলুদ এবং লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। পরে তা বের করে খেয়ে নিন। মাংস দিয়ে কাবাব বানানোর ইচ্ছা থাকলে মাংস মসলা দিয়ে মাখিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। এভাবে অনেকদিন ভালো থাকবে।

মাংস ফ্রিজে রাখার সময় মোটা পলিথিন ব্যবহার করুন। তাহলে এক প্যাকেটের গন্ধ অন্য প্যাকেটে অথবা পুরো ফ্রিজে মসলার গন্ধ ছড়াবে না। মাংস বের করার সময়ও সুবিধা হবে।

যদি একসঙ্গে অনেক মাংস রান্না করে ফেলে তবে কিছুটা ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই মাংস ঠাণ্ডা করে নিতে হবে। গরম মাংস ফ্রিজে রাখলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ঠাণ্ডা মাংস কোনো একটা বক্সে ভরে নিয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। মাংস এভাবে অনেকদিন ভালো থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × 4 =