Templates by BIGtheme NET
২২ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » অন্য পত্রিকার খবর » বন্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত : পুরোপুরি অন্ধকারে ৩০ হাজার গ্রাহক

বন্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত : পুরোপুরি অন্ধকারে ৩০ হাজার গ্রাহক

প্রকাশের সময়: জুলাই ৩১, ২০২০, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

দেশের অধিকাংশ এলাকায় চলমান বন্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও পানির স্রোতে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, কোথাও বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিতরণ লাইন। পানি ঢুকে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বা সাবস্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে মানুষকে বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বা সংস্থাগুলো।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ বন্যা আক্রান্ত এলাকা বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) সমিতিগুলোর আওতাধীন। অন্যান্য বিতরণ কোম্পানিগুলোর যৎসামান্য। বিআরইবির আওতাধীন ২১ জেলায় ২৪ সমিতির আওতায় ৯০ উপজেলা বন্যা আক্রান্ত। এসব উপজেলায় সতর্কতার সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও ঝুঁকি এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেও রাখতে হচ্ছে বিআরইবিকে।

বন্যায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আমাদের সময়কে বলেন, ‘যেসব এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেখানে কী উপায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় এবং একই সঙ্গে মানুষকে কীভাবে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করা যায়,

সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে। সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিগুলো কাজ করছে। এ ছাড়া বন্যায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কী পরিমাণ ক্ষতি হবে বা হচ্ছে তা নির্ধারণ করে সেগুলো কত দ্রত ঠিক করা যায় তার ব্যবস্থা করতেও বলা হয়েছে।

বিআরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) মঈন উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি বন্যাকালীন যতটা সম্ভব মানুষকে সতর্কতার সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে। পাশাপাশি যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও খেয়াল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগকালীন কাজ করতে বলা হয়েছে ‘দুর্যোগে আলোর গেরিলা’ টিমকে। কোথাও বিদ্যুৎ সংকট বা খুঁটি পড়ে গেলে বা বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়লে সেগুলো মেরামত ও অপসারণ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে গতকাল বিআরইবি চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য সব সমিতির জেনারেল ম্যানেজারদের নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই দুর্ঘটনা এড়ানো এবং গ্রাহকদের নিরাপদ রাখতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। বন্যাকালীন বৈদ্যুতিক পুল বা তার ছিঁড়ে পড়ে কোথাও যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে সতর্ক থাকা। বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র বা স্থাপনা বা স্টোররুম বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সেগুলোকে পানি থেকে রক্ষা করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রাখা। সমিতির অভিযোগকেন্দ্রগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা। লগিবৈঠা বা ভেজা শরীর নিয়ে বৈদ্যুতিক সুইচ বা তার স্পর্শ না করা। বন্যায় গাছের ডালপালা ভেঙে বা পড়ে গিয়ে ঝুঁকি তৈরির সম্ভাবনা থাকলে সেগুলো আগেই কেটে ফেলা। জনসচেতনা তৈরি করতে আগে থেকেই মাইকিং লিফটলেট বা প্রচার জোরদার করা। প্রয়োজনীয় মালামাল মজুদ রাখা। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলে যত দ্রুত সম্ভব কাজ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nine + six =