Templates by BIGtheme NET
২২ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » করোনাভাইরাস » আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
ঈদের পর বাড়বে করোনার সংক্রমণ !

আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
ঈদের পর বাড়বে করোনার সংক্রমণ !

প্রকাশের সময়: জুলাই ৩০, ২০২০, ৬:০১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে গত একমাস ধরে কোভিড-১৯ সংক্রমণের চিত্র অনেকটাই স্থিতিশীল। একদিকে যেমন কমছে না, অন্যদিকে বাড়ছেও না। তবে আসন্ন ঈদুল আযহার পর এর সংক্রমণ অনেকটাই বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আর এ সংক্রমণ বাড়ার পেছনে কোরবানির পশুর হাট ও ঘরমুখী মানুষের ভিড় এবং সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে না মানার কারণকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

একাধিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, কোরবানির ঈদে সবচেয়ে বেশি শঙ্কার জায়গা হলো পশুর হাট। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। আবার এই ঈদে গত ঈদের মতো যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের চেয়ে এবার লোক যাতায়াত বেশি হওয়ার সুযোগ আছে। সব মিলিয়ে এই ঈদে সংক্রমণ আরও বেশি ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে।

তবে কী পরিমাণ করোনা রোগী বাড়বে, তা এখনই হয়তো বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সাধারণত করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে লক্ষণ উপসর্গ প্রকাশ পায়। সে হিসাবে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে মাঝামাঝি সময়ে গিয়ে করোনা সংক্রমণে একটি বড় লাফ দেখা যেতে পারে। ঈদের ১৫ দিনের মধ্যে তা প্রকাশ দেখা দিবে।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের কথা জানায় সরকার। এর দুই মাসের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। ঈদুল ফিতরে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবু হাজার হাজার মানুষ নানাভাবে ঢাকাসহ বড় বড় শহর ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় গিয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যে এর প্রভাব স্পষ্ট হয় সংক্রমণের লেখচিত্রে। ২৭ মে থেকে ১৫ জুন—এই ১৮ দিনের ব্যবধানে ঢাকার বাইরে সারা দেশে আগের তুলনায় ১২৪ শতাংশ আক্রান্ত বেড়েছিল। আর একই সময়ে ঢাকায় আক্রান্ত বেড়েছিল ৬১ শতাংশ।

এদিকে, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ঈদুল ফিতরের পর ২৭ মে পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের ৫৪ শতাংশই ছিল রাজধানীতে। আর বাকি ৪৬ শতাংশ রোগী ছিল ঢাকার বাইরে।

আইইডিসিআরের পরামর্শক রোগতত্ত্ববিধ মুশতাক হোসেন বলেন, এবারের ঈদের সময়টা সংক্রমণের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক মানুষ গ্রামে যাবে, সাধারণত কোরবানির ঈদে মানুষ বেশি গ্রামে যায়। গরুর হাট বসে। একসাথে সবাই বসে মাংস কাটে। আর এই জনসমাগমের জন্যই সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে।

এ জন্য সবাইকে মাস্ক পরার পাশাপাশি নিরাপদ দূরত্ব ও বিশেষ সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eleven − 8 =