Templates by BIGtheme NET
২৬ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১০ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » ঐতিহ্য ধরে রাখতেই পেশা আঁকড়ে আছেন কামাররা

ঐতিহ্য ধরে রাখতেই পেশা আঁকড়ে আছেন কামাররা

প্রকাশের সময়: জুলাই ৩০, ২০২০, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

এ জেড ভূঁইয়া আনাস:

কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দা, কুড়াল, ছুরি, চাকুসহ ধারালো সামগ্রী। কেউবা অর্ডারকৃত আর কেউবা নিজে লোহা দিয়ে ধারালো সমগ্রী তৈরি করছেন। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে ব্যস্ততা বাড়লেও এবছর কোরবানে অর্ডার অনেক কম পাচ্ছেন কামাররা। পাশাপাশি লোহার দাম বেশি হওয়ায় লাভও কমেছে অনেকটা। এতে হতাশ হয়ে পড়া কামাররা বলছেন, পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতেই পেশা আঁকড়ে আছেন।

সরজমিনে দেখা যায়, রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিবছর ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কুরবানির অস্ত্র-সামগ্রী বেচাকেনা ভালো হলেও এ বছর মহামারি করোনার প্রভাবে দোকানে ক্রেতারা তেমন আসছেন না। প্রতিবছর কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা কয়েক গুণ বাড়তো। এবারের চিত্রটা অন্য রকম। ঈদ ঘনিয়ে আসায় ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়লেও করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কামাররা।

চাঁদপুর শহরের কামার বিনয় কর্মকার ও গোপাল কর্মকার বলেন, এই সময়টাতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর করোনার প্রভাবে আমাদের বিক্রি ভালো হচ্ছে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের সংখ্যা অনেক কম।

আর রাঙামাটির বাঙ্গালহালিয়া বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শামসুল হক জানান, করোনার ফলে এবার বহু মানুষ পশু কোরবানি দিতে পারছেন না, আগের মতো জমে উঠেনি পশুরহাট। যার ফলে কামারদের জিনিস তৈরি এবং বিক্রিতে ভাটা পড়েছে।

এদিকে, দিনদিন লোহার দাম বাড়াতে থাকায় কামার শিল্পে আয় কমেছে। লোহার দাম আগের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়লেও দা, কুড়াল, ছুরি, চাকুসহ লোহার তৈরি অন্যান্য সামগ্রীর দাম তেমন বাড়েনি বলে দাবি কামারদের। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় ব্যাপক হারে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। এতে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। আবার কেউ কেউ পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে ক্ষতি হলেও এই পেশায় টিকে আছেন বলে জানা গেছে।

এ সম্পর্কে পানার কাশিনাথপুরের কামার অশ্বিন কুমার জানান, লোহার দাম বেশি হওয়ায় শ্রম অনুযায়ী তারা এর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হচ্ছে। শুধু পরিবারে ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এ পেশাটিকে তারা এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন।

আর শৈলকুপা সদরের নারায়ন চন্দ্র কর্মকার বলেন, কুরবানে পশু জবাইয়ের বিভিন্ন অস্ত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন তার প্রতিদিন ১৫ শ’ থেকে দুই হাজার টাকা আয় হচ্ছে। কিন্তু বছরজুড়ে এর পরিমাণ অনেক কম থাকে। যা পরিবারের খরচ চালানোর মতো নয়। তাই বাধ্য হয়ে অন্যান্য কাজ করতে হয়।

কামারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের মধ্যে প্রতি পিস বটি প্রকার ভেদে ৩শ’ থেকে ৮শ’, দা সাড়ে ৩শ’ থেকে ৯শ’, বড় আকৃতির ছুরি ৪শ’ থেকে ১ হাজার, ছোট আকৃতির ছুরি ৫০ থেকে ২শ’টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে ১২শ’ টাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

18 − fifteen =