Templates by BIGtheme NET
২২ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » অর্থনীতি » খুশি ব্যবসায়ীরা:
করোনা সংকট কাটিয়ে ঈদে বেড়েছে বিক্রয়

খুশি ব্যবসায়ীরা:
করোনা সংকট কাটিয়ে ঈদে বেড়েছে বিক্রয়

প্রকাশের সময়: জুলাই ৩০, ২০২০, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

এ জেড ভূঁইয়া আনাস:

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে নিত্যপন্যসহ ক্রয়-বিক্রয় বেড়েছে ফ্রিজ-মোবাইলসহ অন্যান্য পন্যের। যদিও করোনার কারণে প্রতিবছরের চেয়ে এবার বেচা-কেনা কম। তবুও করোনার সংকট কাটিয়ে ক্রয়-বিক্রয় বাড়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, ঈদুল ফিতরের পর সরকার লকডাউনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছেন তারা। খুবদ্রুতই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারবে বলেও আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।

সরজমিনে দেখা যায়, প্রতিবছর ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রেফ্রিজারেটর কেনার যে রকম ধুম পড়ে এবার তুলনামূলক তার চেয়ে কম। তবে কয়েক মাস আগেই এর চেয়ে খারাপ দশা থাকায় খুশি ইলেকট্রনিকস পন্য দোকানদাররা। একই চিত্র পোশাক, জুতা, আসবাব, মুঠোফোন, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজারে। বিভিন্ন কোম্পানি, পাইকারি ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকদের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, তারা এবারের ঈদুল আজহায় গত বছরের তুলনায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য বিক্রির আশা করছেন।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মুর্শেদ বলেন, করোনায় এবার বিক্রি কম হলেও খুব বেশি একটা খারাপ যাবে না। গত এপ্রিল ও মে মাসের তুলনায় জুন-জুলাইয়ে ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর বিক্রির পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেশি। তাই আমরা করোনার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবো বলে আশাবাদি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে করোনা সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন তারা। ঈদুল ফিতরের পর সরকার যদি পুনরায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতো তবে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। এছাড়া সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রণোদনা দেওয়ায় দ্রুত সময়ের মধ্যেই ক্রেতারা বাজার মুখি হতে পেরেছে। এই কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনাকালীন ক্ষতি সামাল দিয়ে উঠার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ফ্যাশন ব্র্যান্ড আড়ংয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মো. আশরাফুল আলম জানান, গত বছর ঈদুল আজহার তুলনায় এবার ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ক্রেতা দেখা যাচ্ছে। পণ্য বিক্রি না হলেও আড়ং তার ৬৫ হাজার কারিগরের টাকা কখনো বকেয়া রাখে না। তবে এখন বিক্রি হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে নতুন করে পণ্য তৈরির ফরমাশ দেওয়া যাবে।

সাধারণ সময়ে প্রতি ঈদেই আসবাব বিক্রি ১০-১৫ শতাংশ বাড়ে। তবে করোনায় সব হিসাব ওলট-পালট হয়ে গেছে। গত মে মাসে সীমিত পরিসরে দোকানপাট খুললে কিছু বিক্রিবাট্টা হয়। তবে কোরবানির ঈদের আগে সেটি বেশ কিছুটা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে হাতিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, করোনার কারণে গত তিন মাসে যে বিক্রি হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমানে আসবাব বিক্রি ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মানুষ মহামারির এই সময়েও স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে এটিই বড় কথা। অনলাইনেও আসবাব বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আয় অনিশ্চয়তা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় বেচাবিক্রিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই অর্থনীতিতে গতি আসার ক্ষেত্রে ঈদকেন্দ্রিক বেচাকেনা কিছুটা হলেও সহায়তা করবে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

three × 2 =