Templates by BIGtheme NET
২৬ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১০ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিনোদন » পল্লীগীতি সম্রাট আব্দুল আলীম
আজও গ্রাম বাংলার হৃদয় শিহরিত যোগ যার গানে

পল্লীগীতি সম্রাট আব্দুল আলীম
আজও গ্রাম বাংলার হৃদয় শিহরিত যোগ যার গানে

প্রকাশের সময়: জুলাই ২৭, ২০২০, ৩:১৬ অপরাহ্ণ

প্রেমের মরা জলে ডুবে না, অসময় বাঁশী বাজায়, হলুদিয়া পাখী, দুয়ারে আইসাছে পালকি, নাইয়ারে নায়ে বাদাম তুইলা, এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া, পরের জায়গা পরের জমিন প্রভৃতি জনপ্রিয় বাংলা গানের শিল্পী আব্দুল আলীমের জন্মদিন ২৭ জুলাই।১৯৩১ এই দিনে ভারতের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

বাংলাদেশের লোকগানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন আব্দুল আলীম। তিনি লোকসংগীতকে অবিশ্বাস্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।আজও গ্রাম বাংলার মানুষের হৃদয় শিহরিত হয় তার মোহনীয় সুরে।

বাল্যকাল থেকেই আব্দুল আলীম সংগীতের প্রবল অনুরাগী ছিলেন। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোনও শিক্ষকের কাছে গান শেখার সৌভাগ্য তার হয়নি।

১৯৪৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আব্দুল আলীমের গানের প্রথম রেকর্ড হয়। রেকর্ডকৃত গান দুটি হল ‘তোর মোস্তফাকে দে না মাগো’ এবং ‘আফতাব আলী বসলো পথে’।

তিনি অন্যের গাওয়া গান শুনে গান শিখতেন, আর বিভিন্ন পালা পার্বণে সেগুলো গাইতেন। এভাবে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা পান। দেশভাগের পর আব্দুল আলীম ঢাকা এসে বেতার-শিল্পীর মর্যাদা লাভ করেন।

এখানে বেদারউদ্দীন আহমদ, ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু, মমতাজ আলী খান, আব্দুল লতিফ, কানাইলাল শীল, আব্দুল হালিম চৌধুরীর কাছে তিনি লোকসংগীত ও উচ্চাঙ্গ সংগীতে পারদর্শী হয়ে উঠেন।

১৯৫৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এ প্লেব্যাক করেন। ‘সুজন সখী’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাকের জন্য ১৯৭৪ সালে সেরা পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

এছাড়া আজান, রূপবান, জোয়ার এলো, শীত বিকেল, এদেশ তোমার আমার, কাগজের নৌকা, নবাব সিরাজউদ্দৌলা (বাংলা ও উর্দু), সাত ভাই চম্পা, দস্যুরাণী প্রভৃতি অসংখ্য ছবিতে কণ্ঠ দেন।

১৯৭৭ সালে আব্দুল আলীমকে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’ এবং ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা দিবসে তাঁকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদক’ প্রদান করে সরকার।

তিনি দেশের প্রথিতযশা গীতিকার ও সুরকারদের গান গেয়েছেন, তাদের মধ্যে লালনশাহ, হাসন রাজা, জসীমউদ্দিন, আবদুল লতিফ, মমতাজ আলী খান, শমশের আলী, সিরাজুল ইসলাম, কানাইশীল, মন মোহন দত্ত প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৫০০ গান রেকর্ড হয়েছে। এছাড়া বেতারে স্টুডিও রেকর্ডে ও প্রচুর গান আছে।

আব্দুল আলীমের দুই পুত্র আজগর আলীম ও জহির আলীমও বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী।

১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বরেণ্য এই সংগীতশিল্পী ইন্তেকাল করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

17 − 7 =