Templates by BIGtheme NET
২২ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » কোয়ান্টাম ইন্টারনেট তৈরির ঘোষণা দিল আমেরিকা

কোয়ান্টাম ইন্টারনেট তৈরির ঘোষণা দিল আমেরিকা

প্রকাশের সময়: জুলাই ২৬, ২০২০, ৭:৩১ অপরাহ্ণ

কোয়ান্টাম ইন্টারনেট তৈরির রুপরেখা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার। কোয়ান্টাম ইন্টারনেট হ্যাক করা যায় না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ (ডিওই) বলছে, কোয়ান্টাম ইন্টারনেট “যোগাযোগের একটি নতুন যুগ” এর সূচনা। এটি আমেরিকাকে বৈশ্বিক কোয়ান্টাম প্রতিযোগিতা সামনের দিকে রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।

ডিওই গত ২৩ জুলাই শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের ঘোষণা করে জানায়, একটি কার্যকরী রুপরেখা আগামী দশ বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনো তথ্য হ্যাক করা যাবে না বা হলেও দ্রুত উদ্ধার করা যাবে। তবে প্রথমে এর সম্ভাব্যতা ও কাযকারিতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ আরো জানায়, কোয়ান্টাম ইন্টারনেটের উন্নয়নে একটি কৌশলগত নকশা তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে শহরে তারপর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এর ব্যবহার শুরু করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ডিওই জাতীয় গবেষণাগার, বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিক হয়, যেখানে কোয়ান্টাম ইন্টারনেট তৈরির পরিকল্পনা করা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

জাতীয় কোয়ান্টাম ইনিশিয়েটিভ অ্যাক্ট যেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ এর ডিসেম্বরে স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই স্বাক্ষর গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নীতির উপর নির্ভর করে একটি জাতীয় ইন্টারনেট চালুর জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছিলেন।

মার্কিন কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা জানান, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তি আরও সুরক্ষিত হবে। বিদ্যমান নেটওয়ার্কগুলোর তুলনায় কোয়ান্টাম মেকানিক্স তথ্যকে আরও সুরক্ষিত রাখবে।

এক দশকের মধ্যে এটি তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প গবেষকদের সাথে কাজ করছে ডিওই। কোয়ান্টাম ইন্টারনেট নির্মাণের লক্ষ্য হলো আরও সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক তৈরি করা।

গত ফেব্রুয়ারিতে, ডিওই’র আর্গোন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি ও শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা শিকাগো শহরতলিতে ৫২ মাইল (৮৩ কিলোমিটার) “কোয়ান্টাম লুপ” তৈরি করেছিলেন, যা আমেরিকার দীর্ঘতম কোয়ান্টাম নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়।

কোয়ান্টাম ট্রান্সমিশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তথ্য প্রবাহিত হওয়ার সময় আড়ি পেতে রাখলেও কাজ হবে না। ফলে হ্যাক করা সহজ হবে না। বিজ্ঞানীরা আড়িপাতা রোধ করতেই এই বৈশিষ্ট্য সম্বলিত নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ করছেন।

প্রাথমিকভাবে ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যসেবা খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কোয়ান্টাম ইন্টারনেটে আওতায়। পরবর্তীতে জাতীয় নিরাপত্তা ও বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি যুক্ত করা হবে।

কোয়ান্টাম নেটওয়ার্কিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সারা বিশ্বের মানুষের জীবনে মোবাইল ফোনে বিস্তৃত প্রভাব পড়তে পারে।

আসন্ন কোয়ান্টাম ইন্টারনেট চালু করতে ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করা ১৭ টি জাতীয় পরীক্ষাগার ব্যবহার করা হবে। এ কাজে প্রাথমিকভাবে অর্থায়ন করবে আমেরিকার সরকার।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার ও ওয়াশিংটন পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

20 − 6 =