Templates by BIGtheme NET
২২ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিনোদন » সিনিয়রদের সম্মানের রীতিটা আমাদের শিল্পী জীবনের চর্চার অংশ : তাহসান

সিনিয়রদের সম্মানের রীতিটা আমাদের শিল্পী জীবনের চর্চার অংশ : তাহসান

প্রকাশের সময়: জুলাই ৬, ২০২০, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

বিনোদন ডেস্ক :  এদেশে খুব কম তারকাই আছেন যারা একইসঙ্গে অভিনয় ও গানে শীর্ষ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সেই বিরলতম নাম তাহসান। একটি দৈনিকে সাম্প্রতিক সময়ের বেশকিছু ঘটনা নিয়ে নিজেস্ব মত ও দর্শন প্রকাশ করেছেন  ‘জীবন যেখানে যেমন’ অনুষ্ঠানের কথোপকথনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রকাশ করা হলো আমাদের পাঠকের জন্য-

দেখুন, নেপটিজম তো আসে ইন্ডাস্ট্রি পলিটিক্স থেকে। যে শব্দটির সঙ্গে আমরা খুব পরিচিত। সেই পলিটিক্সের ভেতরে কিন্তু আমাকেও পড়তে হয়েছে। সেই ঘটনাটা বলি। আমার তখন ক্যারিয়ার শুরুর দিক। কিছু গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মানুষজন চেনেন টুকটাক। আমাকে সিজেএফবি নামের একটি সংগঠন থেকে বলা হলো উপস্থাপনা করার জন্য। সঙ্গে আমার কো-হোস্ট থাকবে আমার তত্কালীন প্রেমিকা। আমি প্রথমে রাজি হইনি। পরে আমার মিউজিক লেবেল কোম্পানি জি-সিরিজের কর্ণধারকে দিয়ে অনুরোধ করানো হয়। রাজি হই। কিন্তু এর ক’দিন বাদেই একটি পত্রিকার সাংবাদিক আমাকে ফোন করে নিষেধ করে, সেই অনুষ্ঠান উপস্থাপনা না করার জন্য। অবাক হই। কারণ আমি প্রথমত সেই সংগঠনের নামটিও জানতাম না। পরে জানলাম যে এই সংগঠনটি দু-ভাগে বিভক্ত। তাই অন্য গ্রুপের জনৈক সাংবাদিক আমাকে শাসালেন যে, সেখানে উপস্থাপনা করতে গেলে আমার অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমার ক্যারিয়ার তারা ধ্বংস করে দেবে। কারণ আপনিও সেই গ্রুপের একজন ছিলেন। আপনি আমাকে কোনো হুমকি দেননি। কিন্তু গোটা সিচুয়েশনটা বুঝিয়েছিলেন। আমি সেদিন জীবনে প্রথম বুঝলাম ইন্ডাস্ট্রি পলিটিক্স কী? আসলে আমরা অনেকেই এর ভেতর দিয়ে পার হই। হ্যাঁ, এই ইন্ডাস্ট্রিতে সিন্ডিকেট আছে এটা আমিও স্বীকার করি। কিন্তু আমাকে কোনো সিন্ডিকেটে পাবেন না। আমি সবার সঙ্গেই কাজ করছি। আমি ঐ সামঞ্জস্যটা শিখেছি। এটার খুব প্রয়োজন আছে। রাতারাতি তো কোনোকিছুর বদল হবে না। দেখুন, আমি ঐ সময় প্রতিবাদটা করতে পারিনি। কিন্তু আজ অন্তত আপনার লাইভে ঘটনাটা বলতে পারছি।

এই ভয়টা কেন?

কারণ এদেশে একেকটি গণমাধ্যমের চেয়ে কিন্তু তারকারা বিত্ত বৈভবে বড় হয়ে ওঠেন না। বাইরের উন্নত দেশে কিন্তু এর ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারকার ব্যাপারটা কিন্তু আলাদা।

এবারে শুনতে চাইব সমসাময়িক আরো একটা ইস্যু নিয়ে। সম্প্রতি আপনার নিজের একটি লাইভে আপনি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কথা বলেছেন। সম্প্রতি এক গায়কের বিতর্কিত মতামত নিয়ে আপনি আপনার মতো পরামর্শ দিয়েছেন। এই চর্চা এবং কপিরাইট ইস্যু নিয়ে শিল্পী গীতিকাররাও আজ দ্বিধা-বিভক্ত। পাশাপাশি একটা নতুন তর্ক আবির্ভাব হয়েছে কাভার গান গাওয়া নিয়ে। এখন একজন তাহসানের ভক্ত কিন্তু বাণিজ্যিক বা অবাণিজ্যিকভাবে কাভার গান গাইবে না?

প্রথম প্রশ্নের জবাবে বলি, আমি ঐ লাইভে কথাগুলো বলেছিলাম কারণ সিনিয়রদের সম্মানের রীতিটা কিন্তু আমাদের শিল্পী জীবনের চর্চার অংশ। অনেকেই বলছিলেন আমাকে যে আপনারও বলা উচিত। আপনারা না বললে তো ভেবে নেবে যে, এভাবেই বোধহয় প্রচার নেওয়া যায়। তাই আমি কিছু কথা বলেছি এবং এখনও বলি এই যে খুব দ্রুত ভিউ পাওয়ার যে রীতি, এটা কিন্তু ভয়ঙ্কর। মিডিয়াও এসবের পেছনেই ছুটবে। দেখুন ঐ সময়ে কিন্তু আরো অনেক গান রিলিজ হয়েছে। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় দৈনিকগুলো ওর খবরগুলোই ছেপেছে। এই শর্টটার্মে ফেম পাওয়ার কৌশলে আদতে কোনো লাভ হয় না। কারণ দর্শকের মনের গভীরে বসতে আসলেও সাধনার প্রয়োজন। আর কাভার গানের ক্ষেত্রে আমার কেন কারোরই আপত্তি থাকার কথা না। কিন্তু ঐ যে এর একটা সুষ্ঠু নীতিমালা প্রয়োজন। এরই ভেতরে কপিরাইট অফিস থেকে ডায়লগ শুরু হয়েছে। আমি এ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লড়ে যাচ্ছি। প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ জায়গায় গিয়ে আমার কথা বলে আসব। কিন্তু এটা ঠিক যে আমরা একত্রিত হয়ে যুথবদ্ধ হওয়ার কাজে ব্যর্থ হয়েছি।

সেক্ষেত্রে আপনি কী নেতৃত্বে আসতে চান?

আমি বললাম যে আসো সবাই মিলে সংগঠন করি। এ রকম দেড়শ’ জনকে নিয়ে সংগঠন করে ফেললাম, এভাবে করলে সবাই বিভিন্নরকম কথা বলবে। কিন্তু সবাই বা অনেকে যদি চান। সবাই চাইলে অবশ্যই সংগীতের সাংগঠনিক নেতৃত্বে আসব। অধিকারের এই আন্দোলনে অগ্রগামী হয়ে থাকতে চাই।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আগামী চলচ্চিত্রসহ নতুন যে গান মুক্তি পাবে তার জন্য রইল শুভকামনা।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

20 − 12 =