Templates by BIGtheme NET
২০ আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৪ জুলাই, ২০২০ ইং , ১১ জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » নিজ দেহ থেকে আলো তৈরি করতে পারে যেসব সামুদ্রিক প্রাণী

নিজ দেহ থেকে আলো তৈরি করতে পারে যেসব সামুদ্রিক প্রাণী

প্রকাশের সময়: জুন ৩, ২০২০, ৪:২৮ অপরাহ্ণ

নিজ দেহ থেকে আলো ছড়াতে পারায় সকলের কাছেই হয়তো পরিচিত জোনাকি। কিন্তু আপনি কী জানেন সমুদ্রে এমন অনেক প্রাণী রয়েছে যারা জোনাকির মতোই আলো ছড়াতে পারে?

অ্যাংলারফিশ : সমুদ্রের তলদেশে বাস করে অদ্ভুত এই মাছটি। শরীরের তুলনায় অনেক বড় এদের চোয়াল। এর মাথার অগ্রভাগে অ্যান্টেনার মতো একটি শিংয়ে ফ্ল্যাশ লাইটের মতো আলো জ্বলে।

ফাইটোপ্ল্যাংকটন নামক একপ্রকার ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে অ্যাংলারফিশ এই আলো তৈরি করে। এদের আলো তৈরির পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো শিকার করা। সমুদ্রের তলদেশের অন্ধকার পরিবেশে আলো জ্বালিয়ে এরা শিকারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরে দেখতে পাওয়া যায়।

ল্যান্টার্ন ফিশ : এটি অ্যাংলারফিশের মতো সমুদ্রের গভীর থাকে। এদের মাথায় ফটোফোর নামক এক বিশেষ অঙ্গ থাকে যেখান থেকে আলো সৃষ্টি হয়। এই আলো সৃষ্টির প্রক্রিয়া অনেকটা জোনাকির মতোই। লেন্স আকৃতির ফটোফোর ব্যবহার করে এরা ইচ্ছামতো আলোর উজ্জ্বলতা পরিবর্তন করতে পারে। এভাবে এগুলো যেমন সমগোত্রীয় অন্যান্য মাছের সাথে যোগাযোগ করে, তেমনই শিকার ও প্রজননের উদ্দেশ্যে এই আলো কাজে লাগায়।

ক্রিস্টাল জেলিফিশ : সামুদ্রিক প্রাণীদের মাঝে অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রাণী হলো জেলিফিশ। এটিও খুবই জনপ্রিয়। একেবারে পানির মতো স্বচ্ছ দেহ বিশিষ্ট এই জেলিফিশগুলো আলো তৈরি করতে পারে। এদের কর্ষিকা থেকে সবুজাভ নীল বর্ণের আলো নির্গত হয়। তবে এদের আলো তৈরির পেছনে তেমন কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই।

স্কুইড : সমুদ্রে অদ্ভুত ও জনপ্রিয় প্রাণী বলা হয় স্কুইডকে। এর শরীরও পানির মতো স্বচ্ছ। অক্টোপাসের মতো দেখতে এই প্রাণীটিকে আরব সাগরে ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যায়।

স্কুইডের দেহে আলো তৈরির মূল উৎস হলো কিছু বিশেষ ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়া ও স্কুইড হলো মিথোজীবী, অর্থাৎ এরা একে অপরকে সাহায্যের মাধ্যমে একত্রে বেঁচে থাকে। স্কুইড এই ব্যাকটেরিয়াগুলোকে খাদ্য হিসেবে অ্যামিনো এসিড ও শর্করার জোগান দেয়। বদৌলতে ব্যাকটেরিয়াগুলো নিজেদের বায়োলুমিনিসেন্স ক্ষমতা দিয়ে স্কুইডদের শত্রু থেকে রক্ষা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × one =