Templates by BIGtheme NET
২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৬ জুন, ২০২০ ইং , ১৩ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিবিধ » যেসব প্রাণীরা কোটি বছর ধরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে

যেসব প্রাণীরা কোটি বছর ধরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে

প্রকাশের সময়: মে ১৭, ২০২০, ৮:২৪ অপরাহ্ণ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: সামাজিক দূরত্ব যে কোনো সংক্রামক ব্যাধি রোধের কার্যকরী হাতিয়ার। মানুষের কাছে বিষয়টি খুব পুরনো না হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন বিভিন্ন প্রাণী এটি মেনে চলছে কোটি বছর ধরে।

পিঁপড়া: পিঁপড়া দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। তবে অণুজীবে আক্রান্ত পিঁপড়া বাসার বাইরে অবস্থান করে। ফলে দলের অন্যদের মধ্যে ইনফেকশন ছড়ায় না। এভাবে সে দলের বাকি পিঁপড়াদের রক্ষা করে।

মৌমাছি: মৌচাকে আক্রান্ত লার্ভা ফেরোমন্স নামক এক প্রকার রাসায়নিক নির্গমন করে। প্রাপ্তবয়স্ক মৌমাছিরা এই ফেরোমন্সের গন্ধ সনাক্ত করতে পারে। গন্ধ পাওয়া মাত্র আক্রান্ত লার্ভাকে চাক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে পুরো কলোনি ইনফেকশন থেকে রক্ষা পায়। মৃত সদস্যদের সবসময় চাক থেকে দূরে সরিয়ে ফেলা হয় ইনফেকশন না ছড়ানো নিশ্চিত করতে।

ইঁদুর : সংক্রমিত অবস্থায় ইঁদুর নিজেকে দল থেকে আলাদা করে ফেলে। অন্য ক্ষেত্রে, স্ত্রী ইঁদুর পুরুষ ইঁদুরের মূত্র থেকে অণুজীবের সংক্রমণ বুঝতে পারে। স্ত্রীরা তখন আক্রান্ত পুরুষকে বর্জন করে নতুন স্বাস্থ্যবান পুরুষ বেছে নেয়।

শিম্পাঞ্জি : ১৯৬৬ সালে ম্যাকগ্রেগর নামের এক শিম্পাঞ্জি পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছিল। সে দলের অন্যদের দ্বারা আক্রমণে শিকার হয় এবং দলের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়। ইনফেকশন থেকে সেরে উঠলে অনেকেই পুনরায় দলে জায়গা ফিরে পায়।

গাভী: বাচ্চা জন্মদানের পূর্বে কিছু গাভী নিজেকে পাল থেকে আলাদা করে ফেলে। এটি নবাগত বাছুরকে দলের অন্য সদস্যদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে।

মাছ: স্ত্রী মাছেরা সাধারণত পরজীবী মুক্ত পুরুষদের বেছে নেয়। তারা দেখে এবং রাসায়নিক সংকেত দ্বারা আক্রান্ত পুরুষদের সনাক্ত করে।

বানর: মান্ড্রিল নামক এক প্রকার বানর নিজের পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে সেবা করে। তবে পরিবারের বাইরের আক্রান্তদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে।

পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত যত মহামারি এসেছে তার বেশিরভাগই নিরাময় সম্ভব হয়েছে সামাজিক দূরত্বের মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × two =