Templates by BIGtheme NET
২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৫ জুন, ২০২০ ইং , ১২ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » করোনাভাইরাস » জানুন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
লক ডাউনে বৃদ্ধি পাচ্ছে মানসিক চাপ !

জানুন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
লক ডাউনে বৃদ্ধি পাচ্ছে মানসিক চাপ !

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ৯, ২০২০, ৫:১৫ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এখন গৃহবন্দি থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে নিজেকে আক্রান্ত হওয়া থেকে যেমন ঠেকানো সম্ভব, তেমনি অপরকেও ঝুঁকিমুক্ত রাখার এটাই সবচেয়ে ভালো পন্থা।

প্রতিদিনের জীবন চলে নির্দিষ্ট ছকে। লকডাউনের জন্য সেই নির্দিষ্ট ছক ওলট-পালট হয়ে গেছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ হয়ে গেছে।

ফলে ঘরে পরিবারের সঙ্গে থেকেও কখনো কখনো একা বোধ হয়। গ্রাস করছে বিষণ্ণতা। এই ঘরবন্দি অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন আত্মীয়স্বজন একে অপরের সঙ্গে হঠাত্ করেই রূঢ় আচরণ করে ফেলছে।

অল্প বয়সীদের জীবনকে এই লকডাউন অবস্থা একঘেয়ে করে তুলেছে। তবে তারা ভিডিও গেম, কার্টুন, মুভি নিয়ে বেশ সময় কাটাচ্ছে। বিশেষ করে শহরে খেলাধুলার সুযোগ তো এমনিতেই নেই। শিশু-তরুণেরা বাসায় সময় কাটিয়ে অভ্যস্ত। ফেসবুক, সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা সময় কাটাচ্ছে। কিন্তু স্কুল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় মানসিক অবসাদে ভুগছে তারা।

তবে লকডাউনের সময় ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ক্লাস চালু হয়ে গিয়েছে। ফলে পাঁচ বছর থেকে ১৩-১৪ বছর বয়সিদের বাড়িতে পড়াশোনা করে সময় কাটাতে বিশেষ অসুবিধা হচ্ছে না। এছাড়া মা-বাবার সঙ্গে ঘরের কাজেও বেশ সময় দিচ্ছে তারা, যেটা একটা পিকনিক মুড এনে দিয়েছে তাদের জন্য।

খুব বড় রকমের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, যারা অফিস ও ব্যবসা নিয়ে দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে কাটান। আর প্রবীণ ব্যক্তি যারা বাসায় থাকলেও প্রতিদিন হাঁটতে যান, বাজার করেন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে পাড়ার ভেতরে বসে আড্ডা দেন, তাদের সমস্যা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। লকডাউনের কারণে তাদের সেই অভ্যাস হঠাত্ বদলে যাওয়ায় তারা বিষণ্নতায় ভুগছেন।

অফিস নেই। ঘরে থেকে সব সময় একটা মানসিক চাপ অনুভব করছেন অনেকে। প্রতিদিন এত এত মৃত্যুর খবর। সংক্রমণের ভয় গ্রাস করছে। এছাড়া এই অবস্থা থেকে মুক্তি ও চাকরির দুশ্চিন্তা সব মিলিয়ে নানা ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

ঘরে থাকলেও দুশ্চিন্তা কিন্তু কাটছে না। বাজার ফুরিয়ে গেলে তখন কীভাবে খাবার কিনব? চাল পাওয়া যাবে তো দোকানে? না পেলে বাচ্চাদের কী খাওয়াব? এই সব আতঙ্ক এসে ঘিরে ধরছে। সবচেয়ে ভয় লাগে বাসার বয়স্ক মা-বাবা যদি হঠাত্ অসুস্থ হয়ে যান তখন কী হবে! এসব চিন্তায় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ।

এ প্রসঙ্গে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল বলেন, বাড়ি থাকলেও প্রবীণদের সেই সামাজিক যোগাযোগটা বজায় রেখে চলতে হবে। আর তা করতে হবে টেলিফোনে, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে। আর টেলিভিশনের খবরটার ওপর নিয়মিত নজর রাখতে হবে।

বিশেষ করে সরকারি ঘোষণা বা বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে, যাতে বাইরের জগতের সঙ্গে তারা আপডেটেড থাকতে পারেন। তবে টেলিভিশনে মৃত্যু বা দুঃখ, শোকের খবর থেকে নিজেদের যদি তারা দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন, তাহলে সেটাই সবচেয়ে ভালো।

তার বদলে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, মন ভালো করা টিভি সিরিয়াল বা পুরোনো দিনের সিনেমা দেখতে পারেন। শুনতে পারেন পুরোনো দিনের আনন্দের গান। বাড়িতে নিয়মিত ব্যায়াম করতেও পারেন। এছাড়া নাতিনাতনি, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ইনডোর গেম খেলে সময় কাটান। কোনোভাবেই তাদের যেন একা রাখতে নিষেধ করেছেন এ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।

সূত্র: ইত্তেফাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 + 4 =