Templates by BIGtheme NET
২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৫ জুন, ২০২০ ইং , ১২ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » বিজ্ঞান- প্রযুক্তি » টুরেট সিন্ড্রোম
যে রোগে দেহের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না ব্যক্তির

টুরেট সিন্ড্রোম
যে রোগে দেহের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না ব্যক্তির

প্রকাশের সময়: এপ্রিল ৯, ২০২০, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ

মানবদেহে এক আশ্চর্যজনক রোগের নাম হচ্ছে টুরেট সিন্ড্রোম। যেটিকে অনেকেই স্নায়বিক সমস্যা বলেও চিনে থাকেন। জানা গেছে, এ সমস্যা থাকলে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে বিভিন্ন অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে। ওই সময় তারা চাইলেও দেহের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।

চিকিৎসকরা বলেন, এটি এক ধরনের জটিল টিক ডিসঅর্ডার। টিক হলো আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে আপনার দেহের কোনো মাংসপেশির আন্দোলন। সাধারণত এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ঘন ঘন চোখের পলক, মুখ ভেংচান, কাঁধ ঝাঁকনো, মাথা ঝাঁকানো, লাফান, শরীর বাঁকান ও অহেতুক চিৎকার করার মতো লক্ষণ দেখা যায়।

তবে জটিল ক্ষেত্রে কখনো কখনো ব্যক্তি নিয়ন্ত্রনহীনভাবে বিভিন্ন কথা বলতে থাকেন। পেশীর স্পন্দন তখন এতটাই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায় যে, ব্যক্তি নিজেই নিজেকে আঘাত করতে থাকেন। অনেকে মানসিক ভারসাম্যও হারাতে পারেন এই রোগে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দেয়ার সাথে সাথে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে বলেন তিনি।

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মস্তিষ্কের কিছু অঞ্চলের অস্বাভাবিকতা (যেমন- ব্যাসাল গ্যাংগলিয়া, সম্মুখ খণ্ড বা লোব এবং কর্টেক্স) এসব অঞ্চলের মধ্যে সংযোগকারী সার্কিটের অস্বাভাবিকতা এবং বেশ কিছু নিউরোট্রান্সমিটার (যেমন- ডোপামিন, সেরোটোনিন, নরএপিনেফ্রিন) এসবের অস্বাভাবিকতার সাথে এই সিন্ড্রোমের সম্পর্ক রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বেশ কিছু জেনেটিক কারণও এর জন্য দায়ী। পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু কারণকে টুরেট সিন্ড্রোমের রিস্ক ফ্যাক্টর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সেগুলো হলো-

টুরেট সিন্ড্রোমের জন্য দায়ী জিনটি একটি ডমিন্যান্ট বা প্রকট জিন। তাই কোনো ব্যক্তি এতে আক্রান্ত হলে সেক্ষেত্রে ৫০% সম্ভাবনা থাকে তার সন্তানদের মাঝে সেটি সঞ্চারিত হওয়ার।

লক্ষণ প্রকাশের দিক থেকে মেয়েদের তুলনায় ছেলেরা ৩ থেকে ৪ গুন বেশি সেনসিটিভ বা ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

এছাড়া শরীরে হরমোনের অস্বাভাবিক ভাঙন টুরেট সিন্ড্রোমকে প্রভাবিত করে বলেও জানান বিজ্ঞানীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি একজন ব্যক্তির শিশুকালে হতে পারে, আবার বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রেও হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই টুরেটে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে যান। অনেকের ক্ষেত্রেই আবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে লক্ষণগুলো চলে যেতে থাকে। কারো কারো ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো অতটা প্রকট না হওয়ায় ঔষধের প্রয়োজন পড়ে না। তবে যাদের ক্ষেত্রে টিকের উপস্থিতি স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটায় তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

12 − 12 =