Templates by BIGtheme NET
২৪ শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ৮ আগস্ট, ২০২০ ইং , ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী
Home » আন্তর্জাতিক » লক ডাউন না করেই যে মন্ত্রে করোনা মুক্ত কোরিয়া

লক ডাউন না করেই যে মন্ত্রে করোনা মুক্ত কোরিয়া

প্রকাশের সময়: মার্চ ২৪, ২০২০, ৬:৫০ অপরাহ্ণ

চীনের খুব কাছের দেশ দক্ষিন কোরিয়া। চীনে যে হারে করোনা ছড়িয়ে পড়েছিলো জনসংখ্যার অনুপাতে কোরিয়ায় তার চেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলো। কিন্তু দেশটি অত্যন্ত সফলভাবে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ পর্যন্ত মাত্র ৬৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। যেখানে বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনায় মৃত্যুর হার মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

কি পদক্ষেপ নিয়েছিলো দক্ষিন কোরিয়া?

করোনা মোকাবেলায় লকডাউনের মতো কোন কঠোর পদক্ষেপও নেয়নি দেশটি। একদিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি অফিস আদালত দোকান পাট। কিন্তু অত্যন্ত দ্রুত করোনা শনাক্ত ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে তারা।

কোরিয়া সারাদেশে ৯৬ টি পরীক্ষাগার নেটওয়ার্ক স্থাপন করে করোনা ভাইরাস সনাক্তের একটি মডেল তৈরী করে। যার দ্বারা মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে করোনা রোধে সবকিছু করা সম্ভব।

দৈনিক ১৫ হাজার করোনা আক্রান্তকে পরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে এসব পরীক্ষাগারে। এছাড়াও দেশব্যাপী তারা জরুরী ভিত্তিতে অনেক ড্রাইভ-থ্রু টেস্টিং স্টেশন স্থাপন করেছে যেগুলোতে মাত্র ১০ মিনিটে সম্পন্ন হয় করোনার পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষার ফলাফল পেতে অপেক্ষা করতে হয় মোটে কয়েক ঘন্টা।

এর ফলে সন্দেহের তালিকা থাকা অথবা করোনা আক্রান্ত সকল রোগীকে বিনামূল্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় টেস্টিং কিটসের অভাব নেই। চারটি সংস্থাকে এগুলি তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ হল দেশে এক সপ্তাহে ১ লাখ ৪০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে। করোনা শনাক্ত, পরীক্ষা এবং চিকিৎসা মন্ত্র-এখন পর্যন্ত ৫ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশটি করোনা প্রতিরোধে নির্ভর করছে ব্যবস্থার ওপর।

দক্ষিণ কোরিয়ায় খুব অল্প সময়ে করোনা শনাক্ত করা হয়। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রোগীকে আলাদা করে চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসে কোরিয়ান সরকার। ফলে আক্রান্ত ওই ব্যক্তির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে যায়।

কোরিয়ার বড় বড় বিল্ডিংয়ের প্রবেশপথগুলিতে তাপীয় ইমেজিং ক্যামেরা রয়েছে। লিফটে হাত স্যানিটাইজারের বোতল রাখা হয়েছে। এমনকি পাতাল রেল প্রবেশপথগুলিতে পোশাক পরিহিত ব্যক্তিরাও সবাইকে হাত ধোয়ার জন্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন।

তবে কোরিয়া এই দক্ষতা অর্জন করে সার্স ভাইরাসের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে। ২০১৫ সালে এ ভাইরাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় ছত্রিশ জন মারা গিয়েছিলেন। সার্স ভাইরাস থেকে বাঁচতে কখন তারা একটি কর্মপদ্ধতি হাতে নেয়। যেটা কাজে লাগানো হয় করোনা প্রতিরোধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

16 − four =