Templates by BIGtheme NET
১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ , ১ জুন, ২০২০ ইং , ৮ শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী
Home » ধর্ম ও জীবন » মসজিদে নামাজ স্থগিত: যে ফতোয়া দিলেন সৌদির সর্বোচ্চ ওলামারা

মসজিদে নামাজ স্থগিত: যে ফতোয়া দিলেন সৌদির সর্বোচ্চ ওলামারা

প্রকাশের সময়: মার্চ ২৪, ২০২০, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ

বিশ্বব্যাপি করোনা আতঙ্কে ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের মসজিদে নামাজ আদায়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি কাবা চত্ত্বরে তাওয়াফও বন্ধ করা হয়েছে। যার কারণে কোন কোন আলেম এর বিরোধিতা করেছেন। এখন দেখার বিষয় কোন যুক্তিতে মসজিদে নামাজ ও কাবা চত্ত্বরে তাওয়াফ বন্ধের ফতোয়া দিয়েছেন সৌদির সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদ।

আরবি ভাষার সংবাদ মাধ্যম আল-রিয়াদ এর তথ্য মতে, সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলামা পরিষদের এ অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে করোনার দ্রুত সংক্রমণ ও ভয়াবহতার বিষয়টি তুলে ধরেন। অতপর সৌদির সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদ তাদের অধিবেশনে করোনাভাইরাস নিয়ে পর্যালোচনা করে তাদের ফতোয়া প্রদান করেন।

অধিবেশনে সিনিয়র স্কলারগণ মানুষের জীবন রক্ষার অপরিহার্যতা সংক্রান্ত কুরআন-সুন্নাহর বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করেন। মানুষের জীবন রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআনে সুরা বাকারার ১৯৫ নাম্বার আয়াতে এসেছে, তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না। আর সুরা নিসার ২৯ নাম্বার আয়াতে আছে, আর নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়াশীল।

আয়াত দুটিতে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, প্রাণঘাতী মহামারী জনিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব বা আবশ্যক।

অন্যদিকে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও মহামারী বিস্তৃতি ঠেকাতে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বনের অপরিহার্যতা তুলে ধরেছেন।

বুখারি শরীফে উল্লেখ আছে, কুষ্ঠরোগী থেকে এমনভাবে পালিয়ে যাও যেভাবে সিংহ থেকে পলায়ন কর।

বুখারি ও মুসলিম শরীফে এসেছে, যদি কোনো এলাকায় মহামারির কথা শুনো তবে সেখানে যেও না। আর যদি কোনো এলাকায় তোমাদের থাকা অবস্থায় মহামারী সৃষ্টি হয় তাহলে সেখান থেকে বের হবে না।

সৌদির ওলামা পরিষদ উল্লেখিত আলোচনার ভিত্তিতে মসজিদে গণজমায়েতে সব ফরজ ও জুম্মার নামাজ বন্ধ রাখে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ বলেছেন। নামাজের জন্য শুধু আজান দেয়াকে যথেষ্ট মনে করেছেন। মসজিদের দরজাগুলোও বন্ধ থাকবে।

এছাড়া আজান দেওয়ার বিষয়েও একটি নির্দেশনা দিয়েছে সৌদির ওলামা পরিষদ। তারা উল্লেখ করেন, হাদিসের ঘোষণা মোতাবেক আজানের শব্দও পরিবর্তন হবে। আজানে ‘হাইয়্যা আলাস-সালাহ’ এর পরিবর্তে ‘সাল্লু ফি বুয়ুতিকুম’ অর্থাৎ আপনার বাড়িতেই নামাজ আদায় করুন।’ঘোষণা করা হয়েছে।

বুখারি ও মুসলিমে উল্লেখ আছে, হজরত ইবনে আব্বাস রা. তার মুয়াজ্জিনকে আজানে এ কথা বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eight − two =