Templates by BIGtheme NET
২১ চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ৪ এপ্রিল, ২০২০ ইং , ৯ শাবান, ১৪৪১ হিজরী
Home » আন্তর্জাতিক » আবার ভীতির মুখে চীন
নতুন প্রজন্মের করোনার প্রাদুর্ভাব

আবার ভীতির মুখে চীন
নতুন প্রজন্মের করোনার প্রাদুর্ভাব

প্রকাশের সময়: মার্চ ২৪, ২০২০, ১২:৫০ অপরাহ্ণ

চীনে নতুন করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সতর্ক করেছেন বেইজিংয়ের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক ও  করোনাভাইরাস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক লি লানজুয়ান।

লি এর প্রচেষ্টা ও নিরলসভাবে পরিশ্রমের কারণে করোনাভাইরাস মহামারীটি অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়েছে। অধ্যাপক লি তার মেডিকেল দলকে উহানে ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশ থেকে নতুন করে আসা কয়েকজনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের কারণে নতুন প্রজন্মের করোনার প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি হচ্ছে চীন।

অধ্যাপক লি লানজুয়ান বলেছেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। বিদেশ থেকে আসা কয়েকজনের মধ্যে নতুন বৈশিষ্টের করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে যা চীনে আরও বড় আকারের মহামারির সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

করোনার কেন্দ্রস্থল উহান দু’মাসের লকডাউন শেষে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার কয়েকদিনের মাথায় অধ্যাপক লি নতুন প্রজন্মের করোনা ভাইরাসের সতর্কতা দিলেন অধ্যাপক লি।

চায়না নিউজ টুডের বরাত দিয়ে ব্রিটেনের ট্যাবলেট পত্রিকা ডেইলি মেইল জানায়, তিনি বলেছেন, নতুন এ করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও রোধ করা চিকিৎসা কর্মীদের জন্য ‘কঠিন’ কাজ হবে। কেন না বিদেশ থেকে আসা একজনের শরীর থেকে স্বাস্থ্যবিদরা কোভিড-১৯ এর যে সংক্রমণ পেয়েছেন তার বৈশিষ্ট ভিন্ন রুপের।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র পিপলস ডেইলিকে লি বলেন, ‘উহানের মিশন শেষ হয়নি। এখনও অনেক জটিল রোগী রয়েছেন। তারপরেও আমি আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি খুব ভালো বলে মনে করি। তবে আমি খুব উদ্বিগ্ন অন্য দেশ থেকে আসা কয়েকজনের মধ্যে যে করোনা সংক্রমিত হয়েছে তা আরও বড় আকারের মহামারির সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

গুয়াংডং প্রদেশের রাজধানী গুয়াংজুর চিকিৎসকরা তুরস্ক থেকে চীন প্রবেশকারী এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এমন একটি করোনভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে সনাক্ত করেছেন। বিদেশ থেকে সরাসরি আসা এটি চীনের প্রথম নতুন প্রজন্মের করোনভাইরাস আক্রান্ত রোগী।

গুয়াংজু পৌর স্বাস্থ্য কমিশন ২৩ মার্চ-২০১৯ এক বিবৃতিতে বিষয়টিকে ‘ আমদানিকৃত করোনাভাইরাস’ বলে অভিহিত করেছে।

ওই ব্যাক্তির ডাক নাম জিন। ৫৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিটি গত ১৭ মার্চ মাংসপেশীতে ব্যথা ও শরীরে শক্তির অভাব অনুভব করেছেন বলে চিকিৎসকরা জানান। সাধারণত করোনায় আক্রান্ত হলে সর্দি, কাশি ও গলা ব্যাথ্যার লক্ষণ দেখা যায়। তবে তার মাংসপেশীতে ব্যাথ্যা ও শক্তির অভাব অনুভব চিকিৎসকদের ভাবিয়ে তুলেছে।

সামান্য জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ২০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরের দিন করোনা পরীক্ষা করা হলে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। জিন এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী মিসেস  লিন, যিনি ২২ জানুয়ারী থেকে ৮ মার্চ ব্যবসায়িক ভ্রমণে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থান করেছিলেন।

লিন ইস্তাম্বুল থেকে ব্যাংকক হয়ে মার্চের প্রথম সপ্তায় গুয়াংজুতে ফিরেছিলেন। তিনি দেশে প্রবেশের পরে তার শরীরে করোনার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। বিদেশ থেকে আসার পর বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই অবস্থান করেন।

২১ মার্চ গুয়াজুর নগরীর সংক্রামক রোগ কর্তৃপক্ষ তাকে পরীক্ষা করার পরে তার শরীরের মাংসেপেশি ও শরীরে শক্তির অভাব বোধ করছেন বলে জানায় পিপলস ডেইলি।

এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পত্রিকাটি গুয়াংজুর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে জানায়, ‘ নতুন করোনা ভাইরাসটি আমদানিকৃত। আমদানী করা দ্বিতীয় প্রজন্মের করোনা ভাইরাসটি নিয়ে উদ্বিগ্ন চীন সরকার।

এই ঘটনার পরে চীনের সব শহরে ভাইরাস-আক্রান্ত দেশ থেকে আগতদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি বিদেশ থেকে আসাদের মধ্যে করোনার লক্ষণগুলো না দেখা গেলেও। অন্যান্য দেশ থেকে আগতদের দু’সপ্তাহের জন্য নিজে থেকে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

চীনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই মারাত্মক ভাইরাসটির নতুন করে আক্রান্ত কোনও স্থানীয়দের মধ্যে খবর পাওয়া যায়নি তবে বিদেশ থেকে অন্য ৩৯ জনের সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। করোনায় বিশ্বজুড়ে ১৫ হাজার জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছে ও ৩ লাখ ৪০ হাজারের বেশি লোক সংক্রামিত হয়েছে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

1 × two =