Templates by BIGtheme NET
১২ ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং , ২৯ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » জাতির পিতার খুনি মোশতাক ও জিয়া মরণোত্তর বিচারে সংসদে বিল পাসের দাবি

জাতির পিতার খুনি মোশতাক ও জিয়া মরণোত্তর বিচারে সংসদে বিল পাসের দাবি

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১৬, ২০২০, ১১:০৬ অপরাহ্ণ

সংসদ ভবন থেকে: রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ আলোচনায় সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বিএনপি এখনও পরাজিত পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন। পাকিস্তানের চেয়েও বেশি পাকিস্তানপ্রেমী হয়ে কথা বলেন। কিন্তু দেশের জনগণ কোনোদিন এসব পাকিপ্রেমীদের মেনে নেবে না। জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের জন্য সংসদে বিল পাসের দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সরকারি দলের পংকজ দেবনাথ, জাফর আলম ও রুবিনা আখতার ও ওয়ার্কার্স পার্টির লুৎফুন্নেসা খান।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ‘সারাবিশ্ব দেখছে, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মেধা-মনন, সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিণত করেছেন।’

মুরাদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে খুনি মোশতাক ও জিয়াউর রহমান গং। বিএনপির একজন চেয়ারম্যান এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে কারাগারে সাজা খাটছেন। আর খুনি জিয়াপুত্র মহাদুর্নীতিবাজ তারেক রহমান দেশের একজন কুলাঙ্গার। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে বঙ্গবন্ধুর কন্যাসহ আওয়ামী লীগের সকল জাতীয় নেতাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। এ মামলার আসামি কুলাঙ্গার তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। যারা জাতির পিতাকে নিয়ে কটু কথা বলবে তাদের এই সংসদের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।’ তিনি খুনি মোশতাক ও জিয়ার মরণোত্তর বিচারের জন্য সংসদে একটি বিল পাসের দাবি জানান।

উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করেছিলেন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান। কিন্তু খুনিদের শেষ রক্ষা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সমৃদ্ধির মহাসোপানে এগিয়ে চলেছে, তা রাষ্ট্রপতির ভাষণের দলিলে উঠে এসেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য সারাবিশ্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাদৃত ও প্রশংসিত হচ্ছেন। মাত্র দুই মেয়াদে শিক্ষার হার ৫০ ভাগ থেকে ৭০ ভাগে উন্নীত করেছেন তিনি। নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করে শিক্ষাখাতে অভাবনীয় সাফল্যে অর্জিত হয়েছে। শুধু খালেদা জিয়া আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত নন, তার দুই পুত্র আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকৃত। সেই বিএনপি দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন কোন মুখে?’

ওয়ার্কার্স পার্টির লুৎফুন্নেসা খান বলেন, ‘নারীদের এখন নিরাপত্তা নেই। নারী ও শিশু ধর্ষণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘসূত্রিতা, মরণঘাতি মাদক এর অন্যতম কারণ। বায়ুদুষণের দিক থেকে সারাবিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ আজ পঞ্চম। এসব দিকে এখন নজর দিতে হবে।’

সরকারি দলের পংকজ দেবনাথ বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের মহাযাত্রার একটি প্রামাণ্য দলিল। বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচন বিমুখতা, অগ্নিসন্ত্রাস, নাশকতাসহ শত ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রধানমন্ত্রী শান্তি-উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহাসড়ক দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বিএনপি নেতারা এখনও পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন।’

সরস্বতী পুজোর দিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেওয়া কোনো ষড়যন্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জাফর আলম বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া এই মা-বেটা মিলে দেশকে গিলে খেতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হয়নি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four − 2 =