Templates by BIGtheme NET
১২ ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং , ২৯ জমাদিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী
Home » জাতীয় » এখনো ঐতিহাসিক পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছে কওমি মাদ্রাসাগুলো

এখনো ঐতিহাসিক পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছে কওমি মাদ্রাসাগুলো

প্রকাশের সময়: জানুয়ারি ১৬, ২০২০, ৫:০৮ অপরাহ্ণ

দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণদের মান মাস্টার্সের সমমান দেওয়া হলেও কওমি মাদ্রাসাগুলোর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনও স্বীকৃতি নেই। সারাদেশে সাধারণ মানুষের অনুদান ও সহযোগিতায় পরিচালিত অন্তত ৩৩ হাজার কওমি ধারার মাদ্রাসা ও হেফজখানা প্রতিবছর একলাখেরও বেশি শিশুর স্বাক্ষরজ্ঞান নিশ্চিত করছে।

কওমি মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের সাধারণ শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ের পাঁচটি ক্লাসেই আরবি-উর্দু পাঠ্যসূচির সঙ্গে বেফাক প্রকাশিত বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়গুলো পড়ানো হয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষা থেকে ঐতিহাসিক বা আরবী-উর্দুকে প্রাধান্য দেওয়া হয় বেশি। এছাড়া সাধারণ বিষয়ের ওপর যে বইগুলো আছে, এতে আরও পরিবর্তন আনা জরুরি বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।

রাজধানীর বড় কাটারা মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল আহাদ বলেন, বইগুলোতে সবকিছু টাচ করা হয়েছে। মূলত মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষাটাই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে প্রাথমিক স্তরের সঙ্গে মান বজায় রাখতে গেলে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এটি করতে হলে মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে উদ্যোগ প্রয়োজন।

কওমি মাদ্রাসায় কোচিংয়ের কোনও সুযোগ নেই এবং প্রয়োজনও পড়ে না। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে নিজে নিজে পড়েই সিলেবাস শেষ করে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে আল-হাইআতুল উলয়া লি-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায়। গত বছর পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হয়। যদিও কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, কওমি মাদ্রাসার আয়ের বড় খাতই হচ্ছে অনুদান। সাধারণ মানুষের অনুদানের ওপর নির্ভর করেই প্রতিষ্ঠানগুলো সব ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। শহর অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় তিন বেলা খাবার দেওয়া হয়। প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই অন্তত অর্ধেক শিক্ষার্থী বিনামূল্যে খাবার ও শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের শিক্ষক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো চিরাচরিত একটি নিয়ম অনুসরণ করছে। প্রাচীনকালে ছাত্ররা গুরুর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। গুরু ছাত্রদের খাবারের ব্যবস্থা করতো, এখন তো গুরু নেই, বিদ্যালয় আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সমাজের গণ্যমান্য বক্তিরা দান করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কওমি মাদ্রাসাকে আধুনিক শিক্ষার আওতায় আনতে হলে অবশ্যই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মাদ্রাসাগুলোতে সরকারি অনুদান প্রধানের পাশাপাশি সরকারি শিক্ষা কারিকুলাম বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

1 × 2 =